মহান বিজয় দিবসের সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু একটি দিবসকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নয়; বরং চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ এসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতে চায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই ভিন্ন ভিন্ন রূপে আজ নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি এবং বলেন, জনগণের শক্তিতেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায় এবং ১৬ ডিসেম্বর সেই যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিজয় দিবসকে কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, বরং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় চলমান রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখার শপথ নেন। মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই এই সংগ্রামের মূল লক্ষ্য।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরা গণতন্ত্রের আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে দল আশাবাদী।
