বিজয় দিবসকে সামনে রেখে পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের উদ্দেশ্যে পতাকা আঁকাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে গেছে’—এই দাবি তুলে একটি পক্ষ তাঁদের বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ ইবনে বাসিত জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে তাঁরা ক্যাম্পাসের ভেতরে পাকিস্তানের পতাকা আঁকছিলেন, যাতে মানুষ সেই পতাকা মাড়িয়ে পাকিস্তানের গণহত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করতে পারে। এ সময় কয়েকজন সহকারী প্রক্টর এসে তাঁদের অনুমতি ছাড়া পতাকা আঁকার কারণ জানতে চান। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রক্টরদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। কিছু সময় পর প্রক্টররা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও জটিল হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা পুনরায় পতাকা আঁকা শুরু করলে একদল আবাসিক হলের শিক্ষার্থী অতর্কিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। ফরহাদের অভিযোগ, হামলার সময় তাঁরা বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়ে গেছে, এখানে কোনো পতাকা আঁকা যাবে না।’ এই বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের জন্ম দেয়।
ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক—দৈনিক কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক মিনহাজুল ইসলাম এবং দৈনিক জনকণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ওমর ফারুক জিলন। মিনহাজুল ইসলাম জানান, তিনি লাইভ সম্প্রচারের সময় একদল শিক্ষার্থী তাঁকে ঘিরে ধরে এবং প্রক্টরের সামনেই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে ওমর ফারুক জিলন বলেন, পতাকা আঁকা নিয়ে প্রথমে সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ আলী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি দেন। পরে প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে হল থেকে বের হতে চাওয়া কিছু শিক্ষার্থী অপেক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হইহুল্লোড় শুরু করে এবং পরে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক স্বীকার করেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার প্রতিবাদে রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে। তাঁরা শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দাবি করেন এবং পাকিস্তানবিরোধী স্লোগান দেন। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা আবারও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানের পতাকা আঁকেন। একপর্যায়ে উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয় এবং সকাল পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।
