সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা ও সদর থানার প্রভাবশালী পুলিশের ওপর কোটি টাকার চাঁদা দাবি ও অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দীন, সদর থানার সাবেক ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক ওসি মহিদুল ইসলাম, সাবেক পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ এবং তার ছেলে মো. রাসেল—পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ আছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বাদীর ভারতীয় সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে বিজিবি। বাদী কাগজপত্র দেখানোর পরও মাছগুলো থানায় পাঠানো হয়। এরপর ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ফোন করে ১.৫ কোটি টাকা দাবি করেন। বাদী ফোন বন্ধ করতে বাধ্য হন।
রাতের বেলা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দীন ও ডিবি ওসি মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সাদা পোশাকধারী পুলিশ বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে। ১ কোটি টাকার চাঁদা দাবি করা হয়। বাদী বাড়িতে থাকা ১৫ লাখ টাকা দিলেও নিরাপদ হননি। পরে বাদী ও তার ভাইকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
জব্দকৃত মাছের অর্ধেক টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। সাবেক পিপি ও তার ছেলে জামিনের আশ্বাস দিয়ে ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা নেন। বাদী মানসিক ও শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মামলার বিষয়ে বিলম্ব হওয়ার কারণও প্রভাবশালী আসামিদের সঙ্গে সংযোগ।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল।