দরপতন ও লেনদেন হ্রাসে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেড়েছে অনিশ্চয়তা

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশাজনক চিত্রই তুলে ধরেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দর কমে যাওয়ায় দিনশেষে সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকই নিম্নমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণও কমেছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডিএসইতে দিনের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক ইতিবাচক। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়, ফলে সূচকও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়। এতে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও তা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। লেনদেনের শেষভাগে এসে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ, খাদ্য, প্রকৌশলসহ ভালো-মন্দ সব খাতেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। এর ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমে যায় এবং সবকটি সূচকই পতনের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করে।

দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ৬৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে বাজারে বিক্রির চাপ ছিল ব্যাপক, আর ক্রেতার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।

লভ্যাংশভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসেও দরপতনের প্রভাব স্পষ্ট। ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত, অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়—এমন ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। তবে একই শ্রেণির ১৩৬টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির প্রতিফলন। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও দরপতনের সংখ্যাই বেশি ছিল। এমনকি ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত, দীর্ঘদিন লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যেও দরপতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

সূচকের দিক থেকে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯১ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৫৭ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৬ কোটি টাকার বেশি কম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সূচক পতনের সঙ্গে লেনদেন কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার অনীহারই ইঙ্গিত দেয়।