রাজধানী ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়—শান্তিনগর, মৌচাক ও মিরপুরে—ধারাবাহিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময় দুর্বৃত্তরা চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনার মধ্যে মিরপুরে একটি বিস্ফোরণে ফুটপাতের এক দোকানি আহত হলেও অন্য তিনটি ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্সে প্রথম ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা শপিং কমপ্লেক্সের ছাদের ওপর থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ককটেলটি মার্কেটের সামনের ফুটপাতে বিস্ফোরিত হলে সেখানে অবস্থানরত এক দোকানি আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এ বিষয়ে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, আহত দোকানির অবস্থা গুরুতর নয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘মার্কেটের ওপর থেকে ককটেল ছুড়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এটি পরিকল্পিত বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার একটি পুলিশ বক্সের কাছেও আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সৌভাগ্যক্রমে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি। তবে পুলিশ বক্সের মতো সংবেদনশীল স্থানের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে শান্তিনগর এলাকার পশ্চিম সিগন্যালের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ জানায়, ককটেলটি সিগন্যালের পাশে থাকা একটি বটগাছে লাগানো বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে আঘাত লেগে বিস্ফোরিত হয়। এতে কোনো প্রাণহানি না হলেও বিস্ফোরণের শব্দে যানবাহন চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
সবশেষে রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে মৌচাক ক্রসিং এলাকায় আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এখানেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ব্যস্ত এই মোড়ে বিস্ফোরণের কারণে পথচারী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রাজধানীতে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলো আলাদা আলাদাভাবে মামলা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
ককটেল বিস্ফোরণের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| এলাকা | সময় | বিস্ফোরণের স্থান | হতাহত |
|---|---|---|---|
| মিরপুর-১ | বিকেল ৪:৩০ | মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্স | ১ জন আহত |
| মিরপুর-১০ | রাত ৮:৩০ | পুলিশ বক্সের কাছে | নেই |
| শান্তিনগর | রাত ৮:১৫ | পশ্চিম সিগন্যাল | নেই |
| মৌচাক | রাত ৮:৪০ | মৌচাক ক্রসিং | নেই |
এই ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।