ওসমান হাদির গুরুতর অবস্থায় ঢামেকে নিরাপত্তা জোরদার

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি নির্বাচনি প্রচারের প্রাক্কালে গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আহত অবস্থায় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি আছেন।

এই ঘটনায় ঢামেক হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি চার প্লাটুন সেনা সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশমুখেও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকাল ৪টার আগে একাধিক সেনা যান ঢামেক হাসপাতালে প্রবেশ করে। এর আগে থেকেই পুলিশের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, হাদিকে হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তাকে পরে সিপিআর দেওয়া হয়। তার মাথার মধ্যে গুলি থাকার পাশাপাশি কানের আশেপাশেও আঘাত রয়েছে। হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, হাদির অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনা করে তাকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের কাছে হাদির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, হাদির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তিনি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে আছেন।

এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় দুইজন মোটরসাইকেলে করে এসে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

এই হামলার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা সংস্থা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা হাদির অবস্থা মনিটর করছেন। চিকিৎসক এবং পরিবার তার স্থিতিশীলতার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি এখনও গুরুতর এবং রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ঘটনাটি নির্বাচনী প্রচারণার প্রাক্কালে একটি নিরাপত্তা সংকটের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।