পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে সাবেক সমিতি সভাপতিকে প্রকাশ্যে গুলি হত্যা

রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের শ্যামবাজার এলাকায় আব্দুর রহমান (৫৫) নামে এক হলুদ-মরিচ ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আব্দুর রহমান শ্যামবাজার কাঁচাবাজার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, দুপুর ১২টার দিকে শ্যামবাজার মাওলা বক্স চক্ষু হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার জানায়, আব্দুর রহমান দুপুরবেলায় তাড়াহুড়ো করে খাবার খেয়ে প্রায় পৌনে ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, সম্ভবত কোনো ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণ ঘটেছে। কিন্তু পরে স্থানীয়রা নিহতের ভাইকে ফোন দিয়ে জানান, আব্দুর রহমানকে গুলি করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে নয়ন নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের একজন সদস্য বলেন, “এলাকার অনেকেই দেখেছে, ঘটনার পরপরই নয়ন দৌড়ে পালিয়ে যায়। নয়ন যদি জড়িত থাকে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার চাই।”

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুপুর ১২টার দিকে মাওলা বক্স চক্ষু হাসপাতালের সামনে আব্দুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ওসি মো. মতিউর রহমান বলেন, “নিহত আব্দুর রহমান শ্যামবাজার এলাকার বাসিন্দা ও কাঁচাবাজার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। আমরা তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, আব্দুর রহমান ব্যবসায়িকভাবে পরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন। তার হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবারসহ ব্যবসায়ী মহলে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত টহল দিয়েছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে এবং পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন আশ্বস্ত করেছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি আনা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার আশা করছে, তদন্ত যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের সহিংস ঘটনা এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।