“আদালতে জমা পড়ল ক্রিকেটার তোফায়েলের ধর্ষণ মামলার চার্জশিট”

জাতীয় দলের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলেছেন—এমন পরিচিত ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অবশেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে গুলশান থানা পুলিশ। নারীর ওপর সহিংসতা ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় দায়ের হওয়া মামলাটির তদন্ত প্রায় চার মাস ধরে চলার পর গত ৩০ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম চার্জশিটটি আদালতে জমা দেন।

এসআই সামিউল ইসলাম জানান, তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য–সবকিছু বিবেচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “সাক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেবেন। চার্জশিটে যেসব তথ্য উল্লেখ আছে, তা আদালত পর্যবেক্ষণ করবেন।”

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আকতার জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর। সেদিন চার্জশিট বিচারকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

চার্জশিটে যা উঠে এসেছে

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অভিযুক্ত তোফায়েল ও ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। প্রথমদিকে সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও পরে তোফায়েল বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। ভুক্তভোগী সেই প্রস্তাবে রাজি না হলেও তোফায়েল বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি গুলশানের একটি হোটেলে প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তোফায়েল। পরবর্তী কয়েক মাসে আরও কয়েকবার একই ঘটনা ঘটে বলে মামলার বাদী উল্লেখ করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ১ আগস্ট গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার পর তোফায়েল ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। তবে জামিনের মেয়াদ শেষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, “তোফায়েল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন, কিন্তু পরে তিনি পিছিয়ে যান। বিষয়টি পরিবারকেও জানালে কোনো সমাধান হয়নি।”

মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (টেবিল ফরম্যাট)

বিষয়বিবরণ
অভিযুক্তক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হান
অভিযোগের ধরনধর্ষণ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯(১))
ঘটনার শুরুর সময়জানুয়ারি ২০২৪
প্রথম অভিযোগিত ঘটনা৩১ জানুয়ারি, গুলশানের একটি হোটেল
মামলা দায়ের১ আগস্ট ২০২৪
চার্জশিট দাখিল৩০ নভেম্বর ২০২৪
তদন্ত কর্মকর্তাএসআই সামিউল ইসলাম
পরবর্তী শুনানি৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
জামিন২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন

 

SB