চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত সিআরবি এলাকায় আজ বুধবার সকালে ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী কয়েক মিনিটের ঝটিকা মিছিল করে অসংখ্য মানুষের নজর কাড়ে। এই সংগঠনটি রাজনৈতিক সক্রিয়তা থেকে নিষিদ্ধ থাকলেও, তাদের এই হঠাৎ শোডাউন প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে ব্যানার নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকে— ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসছে, বাংলাদেশ জাগছে’। স্লোগানগুলোতে সরাসরি বর্তমান সরকারপ্রধানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পাওয়া যায়। সংগঠনের নিষিদ্ধ থাকার অবস্থায় এমন প্রকাশ্য শোডাউন শুধুই আবেগ প্রকাশ নাকি এর পেছনে আরও বড় রাজনৈতিক বার্তা—এ নিয়ে জনমনে চর্চা শুরু হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল করিম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— এ ধরনের মিছিল পুলিশি টহল এড়িয়ে কীভাবে সম্ভব হলো? মিছিলটি খুবই সংক্ষিপ্ত সময় স্থায়ী হলেও, রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি অংশ হয়ত আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
এর আগে ২৯ নভেম্বর নগরের চটেশ্বরী এলাকায় ঠিক একই ধরনের ঝটিকা মিছিল হয়েছিল। সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে পুলিশ–প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয় এবং ১ ডিসেম্বর চকবাজার থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতাকর্মীরা হয়ত চাইছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হোক। তাই তারা নিজেদের আদর্শগত উপস্থিতি দেখাচ্ছে। চট্টগ্রাম বরাবরই ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হওয়ায় এই ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।