জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন জকসু নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া ছয় প্রার্থী আপিলে পুনরায় নির্বাচন করার অনুমতি পেয়েছেন। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এখন এই ছয়জনের প্রত্যাবর্তনই প্রধান বিষয়।
জকসু ও হল সংসদের বিধিমালা অনুসারে যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৭ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ জন আপিল করেন। সব আপিল নথি যাচাই করার পর নির্বাচন কমিশন ছয়জনের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে।
Table of Contents
যারা ফিরলেন প্রতিযোগিতায়
বৈধতা পাওয়া ছয়জন প্রার্থী হলেন—
মিঠুন চন্দ্র রায় – স্বতন্ত্র প্যানেলের ভিপি প্রার্থী
মুগ্ধ আনন – মওলানা ভাসানী ব্রিগেড, ক্রীড়া সম্পাদক প্রার্থী
মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম – অদম্য জবিয়ান ঐক্য, ক্রীড়া সম্পাদক প্রার্থী
হাসনান আল সাবিত – কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী
মো. জাহিদুল ইসলাম রিফাত – কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী
মো. শিহাব উদ্দীন হিফজু – কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী
তাদের মধ্যে ভিপি প্রার্থী মিঠুন চন্দ্র রায়ের প্রত্যাবর্তনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মনোনয়ন বাতিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পর এখন তিনি আবার প্রতিযোগিতায় ফিরেছেন।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
এই নির্বাচনে ২৬৭ জন ফরম সংগ্রহ করলেও ২১টি পদের জন্য মনোনয়ন জমা পড়ে ২১১ জনের। প্রাথমিক যাচাইয়ে বাদ পড়েন ১৭ জন। এরপর আপিল এবং পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্তভাবে ১৯৪ জন বৈধ প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, অনেক মনোনয়ন পত্র অসম্পূর্ণ ছিল বা নিয়মবিধির কিছু ধারা পূরণ হয়নি। তবে আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করায় ছয়জনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন—
“সব প্রার্থীর আবেদন আমরা নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় যাচাই করেছি। যাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে, তাদের প্রার্থিতা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।”
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার তাৎপর্য
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে এই সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে—
ভিপি প্রার্থী মিঠুনের প্রত্যাবর্তনে স্বতন্ত্র প্যানেল আবারও শক্ত অবস্থানে
বাম জোট মওলানা ভাসানী ব্রিগেড নতুন উদ্যম পাচ্ছে
শিবির সমর্থিত জবিয়ান ঐক্যের প্রার্থীও ফিরেছেন, যা অন্যদের জন্য নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপ
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
অনেকেই মনে করেন মনোনয়ন বাতিলের প্রক্রিয়ায় প্রশাসন অত্যধিক কঠোর হয়েছিল। আপিলে ছয়জন ফিরে পাওয়ায় অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ হবে।
সম্ভাব্য প্রভাব
প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে
ক্রীড়া সম্পাদক ও ভিপি পদে ভোটারদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে
স্বতন্ত্র প্যানেলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে
শেষ কথা
জকসুর নির্বাচন এবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেক বছর পর এই নির্বাচন হওয়ায় প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপিলে ছয়জনের ফিরে আসায় নির্বাচনী লড়াই আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
