বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জন্য নির্ধারিত এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ফ্লাইটকে ভিভিআইপি (ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন) হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটির অবতরণ ও উড্ডয়নের প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স প্রদান করেছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়াকে নিতে নির্ধারিত এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আগামী ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবে এবং প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবে। তিনি বলেন, “এটি ভিভিআইপি মুভমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ল্যান্ডিং থেকে টেকঅফ পর্যন্ত সব ধরনের নিরাপত্তা, অপারেশনাল ও প্রটোকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। রুট, সময়সূচি ও অবতরণের সময় চূড়ান্ত হলেই সংশ্লিষ্ট সব ইউনিট পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করবে।”
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স অবতরণের সময় রানওয়ে ব্যবস্থাপনা, টার্মিনাল প্রবেশাধিকার, নিরাপত্তা বলয় এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং—সবকিছুই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। ভিভিআইপি ফ্লাইট হওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আগাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার কথাও জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবি এম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা কিছুটা পিছিয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ঢাকায় আসার পর যেকোনো দিন তাঁর যাত্রা হতে পারে। এ মুহূর্তে নতুন নির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।” তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় ও লজিস্টিক সমন্বয়ের ওপরই চূড়ান্ত যাত্রার সময় নির্ভর করছে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও সতর্ক অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, “ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা গত কয়েকদিন ধরে মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের প্রাপ্যতা ও তাঁর শারীরিকভাবে দীর্ঘ ভ্রমণের উপযোগিতা—এই দুই বিষয় বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।” চিকিৎসকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে রোগীর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাতারের ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স প্রথমে ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় আসার কথা ছিল। তবে কারিগরি ও সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের কারণে তা পরিবর্তন করে ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। একই কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার প্রাথমিক সময়সূচিও ১০ ডিসেম্বর ধরা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এই সূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে চিকিৎসা ইস্যুটি কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা। ভিভিআইপি মর্যাদা দিয়ে ফ্লাইট অনুমোদনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসরণের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
নিম্নে খালেদা জিয়ার এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স যাত্রা সংক্রান্ত প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রোগী | খালেদা জিয়া |
| বর্তমান চিকিৎসা কেন্দ্র | এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা |
| গন্তব্য | লন্ডন |
| ফ্লাইটের ধরন | এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স |
| মর্যাদা | ভিভিআইপি |
| এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আগমন | ৯ ডিসেম্বর |
| প্রাথমিক প্রস্থান | ১০ ডিসেম্বর |
| অনুমোদনকারী মন্ত্রণালয় | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
| বিমানবন্দর প্রস্তুতি | নিরাপত্তা ও অপারেশনাল ব্যবস্থা সম্পন্ন |
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা নিয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের সময়সূচির ওপর। তাঁর স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য।
