ক্রিকেটে ৩৫০ রান মানে একসময় ছিল জয়ের নিশ্চয়তা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটাররা এতটাই সুবিধাজনক অবস্থানে যে ৩৫০–৩৬০ রানও নিরাপদ নয়। বিশেষ করে এমন ম্যাচ যেখানে শিশির বোলারদের হাত থেকে সব অস্ত্র কেড়ে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো এই বাস্তবকে আরও কঠিন করে দিয়েছে।
রায়পুরে ভারত করেছিল ৩৫৮ রান। তবুও ম্যাচটি সহজেই জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রশ্ন ওঠে—এমন স্কোরের পরও দল কীভাবে ম্যাচ হারতে পারে? উত্তর একটাই—শিশির। দ্বিতীয় ইনিংসে শিশির পড়লে স্পিনাররা টার্ন হারিয়ে ফেলে, সিমারদের বল হাত থেকে পিছলে যায়, আর ব্যাটারদের জন্য টেনিস বলের মতো আরামদায়ক হয়ে পড়ে বল। ফলে ১০ ওভারে ৮০ রান তোলা যেমন সহজ, তেমনি ২০ ওভারে ২০০ রান তোলা অনেকটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
সহকারী কোচ টেন ডোশেট স্পষ্টই বলছেন, “প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং আর দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই বাড়ছে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ক্রিকেটের নিয়ম, ফরম্যাট, পরিকল্পনা—সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কারণ দৈনন্দিন ক্রিকেট প্রযুক্তি, অ্যাপ্লিকেশন, ট্র্যাকিং, ডিউ ম্যাপিং—সবকিছু দিয়েও শিশির নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
এমন অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, ওডিআই ক্রিকেট এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে শুধু দক্ষতা নয়, পরিবেশগত অবস্থানটাই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করছে। ব্যাটাররা বুমরাহ, শাহীন, কামিন্স—যার বিপক্ষেই খেলুক, ভিজে বলের বিরুদ্ধে কোনো বোলারই টিকতে পারে না।
এখন অনেক সাবেক ক্রিকেটার পরামর্শ দিচ্ছেন—যদি ম্যাচ রাতে হয়, তবে নতুন কৌশল প্রয়োজন। বোলারদের জন্য ভিন্ন বল পরীক্ষা, ব্যাটিংয়ে স্কোর বোর্ড প্রেসার আরও বাড়ানো, স্পিনারদের স্লাইডার ও দ্রুত বল বাড়ানো এবং ডট বলের পরিকল্পনা—এসবই হয়ে উঠতে পারে আধুনিক ক্রিকেট কৌশলের নতুন অধ্যায়।
শিশির ক্রিকেটে নিয়মের বাইরে হলেও এটি এখন বিশ্বের সব বড় দলকে কৌশলগতভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করছে। ক্রিকেট শুধু মাঠে নয়, আবহাওয়ার সঙ্গেও যুদ্ধ করে এগোচ্ছে। ৩৫০ রান আর জয়ের নিশ্চয়তা নয়—এটাই ক্রিকেটের নতুন বাস্তবতা।
