ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইনের দাবিতে উত্তাল মিরপুর রোড: দেড় লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে

ঢাকা কলেজের সামনে সাত কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর রোড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫–এর অধ্যাদেশ জারিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন। তাদের দাবি, বারবার আলোচনার পরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়েছে সড়ক অবরোধে।

বিক্ষোভের সূচনা

সকাল থেকেই ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা কলেজ থেকে মিছিল বের করেন, আজিমপুর মোড় ঘুরে এসে কলেজ–সংলগ্ন মিরপুর সড়কে অবস্থান নেন এবং পুরো রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে রাখেন। কয়েক মুহূর্তেই যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

পথচারীরা বলেন, সকাল ১০টার পর থেকে রাস্তায় এক ইঞ্চিও সরতে পারেনি যানবাহন। স্কুলের শিশুরা গাড়ির মধ্যে আটকা পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। অনেকে বিকল্প পথ ধরে হাঁটতে বাধ্য হন।

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ: ‘আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলবেন না’

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাত কলেজের পরীক্ষা–ব্যবস্থাপনা, সেশনজট, ফল প্রকাশ—সবকিছুই অধ্যাদেশ ছাড়া ঝুলে আছে। প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে। তিন দফা আলোচনার পরও যখন কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই, তখন তারা মনে করছেন—
“মন্ত্রণালয় শুধু সময় নিচ্ছে, সমাধান দিচ্ছে না।”

তাদের দাবি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের মাধ্যমে পরীক্ষার স্বচ্ছতা, সময়মতো সেশন শেষ এবং প্রশাসনিক কাঠামো সুসংহত হবে। কিন্তু অধ্যাদেশ ঝুলে থাকায় সব কাজই স্থবির হয়ে আছে।

অবরোধে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক অচল

মিরপুর সড়ক ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় অবরোধের প্রভাব পড়ে বিশাল এলাকায়। নিউমার্কেট, ধানমন্ডি ২৭, সায়েন্সল্যাব, আজিমপুর, পাবনা হাউস—সব এলাকা কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থবির হয়ে যায়। বিকল্প সড়কেও চাপ বেড়ে যায়। অনেক অফিসগামী কর্মী বলেন, দুই কিলোমিটারের পথ যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।

এক অ্যাম্বুলেন্সচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“রোগী নিয়ে দ্রুত যেতে হবে, কিন্তু রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ। আমাদের সামনেই শিক্ষার্থীরা বসে আছে।”

আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও সমালোচনা

শিক্ষার্থীদের দাবি নিঃসন্দেহে যৌক্তিক বলে অভিমত জানিয়েছেন বেশ কিছু শিক্ষাবিদ। তাদের মতে, সাত কলেজের প্রশাসন ঢাবির সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে বহু বছর ধরেই সেশনজটে ভুগছে। আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হলে সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।

তবে জনদুর্ভোগ বাড়ানোকে কেন্দ্র করে সমালোচনাও হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, দাবি আদায়ের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ঠিক হলেও পদ্ধতিতে পরিমিত হওয়া উচিত।

পরিস্থিতির সম্ভাব্য সমাধান

সরকারি সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন—
অধ্যাদেশ প্রকাশের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

উপসংহার

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা যেখানে প্রতিদিনই চাপে থাকে, সেখানে এ ধরনের বড় আন্দোলন শহরকে কয়েক ঘণ্টায় অচল করে দিতে পারে। কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হলো দেড় লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। তাদের দাবি সমাধান না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।