ভোক্তা পর্যায়ে অনুমতি ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর অভিযোগে দেশের তেল আমদানিকারক ও বিপণনকারী শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে তলব করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং সরকারের নির্ধারিত মূল্যনীতির সঙ্গে কোম্পানিগুলোর অবস্থান পর্যালোচনা করা হবে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সয়াবিন তেলসহ ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে আবেদন করেছিল ঠিকই, তবে সেই প্রস্তাব এখনো অনুমোদন পায়নি। এ অবস্থায় সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাজারে লিটারপ্রতি ৯ টাকা করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। তিনি বলেন, “সরকার সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে কোনো মূল্য সমন্বয় করার সুযোগ নেই। কোম্পানিগুলো কী যুক্তিতে দাম বাড়িয়েছে, তা আমরা জানতে চাই।”
বর্তমানে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের পাশাপাশি খোলা তেলের দামও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তারা বলছেন, হঠাৎ করে দাম বাড়ায় তাদের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে। ভোজ্যতেল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হওয়ায় এর মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সম্প্রতি বেড়েছে। পাশাপাশি ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া এবং ব্যাংক সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় তাদের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়েই তারা অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম সমন্বয় করেছেন বলে দাবি তাদের।
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট। মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম সমন্বয়ের আবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে, কিন্তু সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কোম্পানি একতরফাভাবে দাম বাড়াতে পারে না। এমন পদক্ষেপ ভোক্তা অধিকার আইন এবং বাজার ব্যবস্থাপনার নীতির পরিপন্থী।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি প্রথমবার নয়। গত অক্টোবর মাসেও একইভাবে সরকারের অনুমতি ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছিল কয়েকটি কোম্পানি। সে সময় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়ে জানায়, অনুমোদন ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত কোম্পানিগুলো সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোজ্যতেলের বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিতভাবে আমদানি ব্যয়, মজুত পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তথ্য প্রকাশ করলে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিভ্রান্তি কমবে এবং একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে ভোজ্যতেলের দামের সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| পণ্যের নাম | পূর্ববর্তী দাম (প্রতি লিটার) | বাড়ানো দাম | বৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| সয়াবিন তেল (বোতলজাত) | পূর্বনির্ধারিত মূল্য | নতুন বাজারদর | ৯ টাকা |
| সয়াবিন তেল (খোলা) | অঞ্চলভেদে ভিন্ন | বৃদ্ধি পেয়েছে | ভিন্নমাত্রা |
