নোয়াখালীতে তরুণী ধর্ষণ: প্রতিবেশী তরুণ গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক তরুণীকে তার বসতঘরে ঢুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত আরাফাত ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছেন।

ঘটনা ও গ্রেপ্তারের বিস্তারিত

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে। ভুক্তভোগী তরুণী ঘটনার পর পুলিশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (২০০০) আওতায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে সোমবার রাতেই পুলিশ আরাফাতকে আটক করে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন, যা বিকেলে কার্যকর করা হয়।

ভুক্তভোগীর প্রেক্ষাপট

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বিয়ে হয়েছিল একই উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে প্রতিবেশী আরাফাত ইসলাম তাকে দীর্ঘ সময় ধরে উত্ত্যক্ত করছিলেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে আরাফাত বসতঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। তরুণী দরজা খুললে তিনি ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগীর চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা জেগে ওঠেন এবং তাকে ধরে রাখেন। পরে তারা তাকে থানায় নিয়ে যান।

থানার পক্ষ থেকে মন্তব্য

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন,

“আরাফাত পূর্ব থেকেই ভুক্তভোগীকে উত্ত্যক্ত করছিল। সোমবার রাতের ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

ঘটনার ধারা

ঘটনার ধারা সহজভাবে নিম্নে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:

তারিখ ও সময়ঘটনাআইনগত পদক্ষেপবর্তমানে অবস্থান
১ ডিসেম্বর, রাত ১২:৩০আরাফাত বসতঘরে প্রবেশ ও ধর্ষণভুক্তভোগী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরআরাফাত আটক
২ ডিসেম্বর, দুপুরচিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরআদালত শুনানি শেষে কারাগারে প্রেরণকারাগারে পাঠানো হয়েছে

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়রা এ ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা চান, এমন ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এছাড়া, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের আরও সক্রিয় উপস্থিতি ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।