খালেদা জিয়ার গুরুতর শারীরিক অবস্থায় হঠাৎ অবনতি

জাতীয় রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি দেখা দিয়েছে। রবিবার দিবাগত রাতে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা পরিচালনা করছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রবিবার রাত থেকে খালেদা জিয়া ‘ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ আছেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে খালেদা জিয়া ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন। তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসার জন্য লড়ছেন।” চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি লাইফ সাপোর্ট নয়, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক।

গত বুধবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অতি দুর্বল অবস্থায় ছিলেন। শনিবার তিনি সামান্য কথা বলেছেন, কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা এবং লিভারের সংকটের কারণে সামগ্রিক অবস্থার কোনো স্থায়ী উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় চীনের পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছে। তারা দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আমেরিকার জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ এবং লন্ডন ক্লিনিকের মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে মিলিত হয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তদারকি করছেন।

বিএনপি নেতারা সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন। দলের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত চিকিৎসকের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে প্রচার করতে হবে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ম্যাডামের চিকিৎসা স্থিতিশীল। বিভ্রান্ত হবেন না।”

দেশজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন দোয়া, মোনাজাত ও সমাজসেবা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। পশু জবাই করে দুস্থদের মধ্যে দান দেওয়া হয়েছে, যা নেত্রীর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর প্রতি মানুষের একাত্মতা প্রকাশ করে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতা একাধিক। লিভারজনিত সমস্যা, কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসকষ্ট এবং ডায়াবেটিসের সঙ্গে অন্যান্য জটিলতাও যুক্ত রয়েছে। আইসিইউতে স্থানান্তরের মাধ্যমে চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন, যা রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।