আসন্ন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি খেলবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে জুন-জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য প্রতিযোগিতায় তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আশাবাদও রয়েছে। আর্জেন্টিনার সাবেক ফিটনেস কোচ ফার্নান্দো সিগনোরিনি মনে করেন, দেশের শিরোপা ধরে রাখতে হলে মেসির মাঠে থাকা একেবারেই অপরিহার্য।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যে, বিশ্বকাপের আগে মেসিকে এমএলএসের ক্লাব ইন্টার মায়ামি থেকে যথেষ্ট সময়ের জন্য ছুটি নেওয়া উচিত। সিগনোরিনি বলেন, “মেসি ইন্টার মায়ামিতে যে ফুটবল খেলছেন, তা আসল ফুটবলের সঙ্গে তুলনীয় নয়, বরং এটি একধরনের ফুটবল-প্যারোডির মতো।”
সুপার দেপোর্তিভো রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড় জীবিত থাকলে হয়তো মেসিকে বলতেন—বিশ্বকাপকে তোমার প্রধান লক্ষ্য বানাও। এখন মেসির একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত ২০২৬ বিশ্বকাপ।”
মেসিও সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন, তাঁর বিশ্বকাপ খেলা নির্ভর করবে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর। সিগনোরিনির মতে, বিশ্বকাপের আগের তিন মাস পুরোপুরি ছুটি নেওয়াই শরীর ও মনকে পুনরুদ্ধার করার সর্বোত্তম উপায়। এতে তিনি আরও তীব্র আগ্রহ ও জোর নিয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন।
২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসি সম্প্রতি ক্লাবটির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন। তবে সিগনোরিনি বিশ্বাস করেন, এমএলএস মেসিকে ইউরোপের উচ্চ প্রতিযোগিতার মানে মানিয়ে দিতে পারবে না।
নিচের টেবিলে মেসির বর্তমান ক্লাব এবং ভবিষ্যত সম্ভাব্য প্রস্তুতি সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বর্তমান ক্লাব | ইন্টার মায়ামি (MLS) |
| চুক্তি মেয়াদ | ২০২৮ পর্যন্ত |
| বিশ্বকাপ লক্ষ্য | ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ |
| কোচের পরামর্শ | বিশ্বকাপের আগে তিন মাস ছুটি নেওয়া |
| সম্ভাব্য প্রভাব | ফিটনেস ও মানসিক পুনরুদ্ধার, উচ্চ প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি |
সিগনোরিনি উল্লেখ করেন, এমএলএসে থাকলে মেসি ইউরোপফেরত খেলোয়াড়দের তুলনায় ফিটনেস ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন। তাই তাঁর মতে, মেসির উচিত আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শক্তি সঞ্চয় করা এবং বিশ্বকাপকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
মোটের ওপর, সাবেক কোচের পরামর্শ অনুযায়ী মেসির সঠিক প্রস্তুতি ও বিশ্রামই হতে পারে আর্জেন্টিনার জন্য শিরোপা ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।
