১০ জনের দল নিয়েও দাপুটে ডিফেন্সে লন্ডন ডার্বি শেষ

প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে আর্সেনালের ছিল বড় সুযোগ। আরও বড় সুযোগ তৈরি হয় ৩৮ মিনিটে কাইসেদোর লাল কার্ডে চেলসি ১০ জনে নেমে যাওয়ার পর। কিন্তু ফুটবলের বাস্তবতা হলো—সুযোগ কাজে না লাগালে সেই সুযোগই ঘুরে দাঁড়িয়ে শাস্তি দেয়। আর্সেনালের ক্ষেত্রেও হলো তাই। ম্যাচ শেষে ফল ১-১।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসির প্রেসিং ছিল তীব্র। আর্সেনাল বল দখলে এগিয়ে থাকলেও ফাইনাল থার্ডে ছিল অনিশ্চয়তা। কাইসেদো মাঠ ছাড়ায় চেলসি এক খেলোয়াড় কম হলেও তাদের ডিফেন্সিভ অর্গানাইজেশন হয়ে ওঠে আরও আঁটসাঁট।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই সেট পিস থেকে আর্সেনালের দুর্বলতা আবার প্রকাশ পায়। লিগে এ মৌসুমে তাদের ৬০% গোল খাওয়া এসেছে ডেড-বল পরিস্থিতি থেকে—চলোবাহর হেড সেই সংখ্যাকে আরও বাড়াল। এখানে থিয়াগো সিলভা ও চালোবাহ মিলে জোনাল পজিশনিং তৈরি করায় আর্সেনালের ডিফেন্ডাররা চমক খেয়ে যায়।

এরপর আর্সেনাল ম্যাচে ২৩টি আক্রমণ তৈরি করে, যার ৮টি বক্সে প্রবেশ করে। কিন্তু কার্যকর শট মাত্র ৩টি। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা গেছে স্ট্রাইকার জেসুসের পজিশনাল প্লেতে; বক্সে জায়গা বের করে নেওয়াটা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

আর্সেনালের সমতার গোল আসে উইং-প্লের ধারাবাহিকতার ফল। সাকার এই মৌসুমে এটি ছিল তার সপ্তম অ্যাসিস্ট—যা তার দলের মোট অ্যাসিস্টের প্রায় ৩০%। মেরিনোর হেড ছিল নিখুঁত, কিন্তু এরপর আর চেলসির গোলমুখ ভেদ করতে পারেনি আর্সেনাল।

১০ জন নিয়ে ৫১ মিনিট খেলে চেলসি ১১টি ক্লিয়ারেন্স, ৮টি ব্লক এবং ৫টি ট্যাকল জিতে ম্যাচে এক পয়েন্ট তুলেছে। স্ট্যাটিস্টিক্যালি এটি লিগের অন্যতম রেজিলিয়েন্ট পারফরম্যান্স।

পয়েন্ট টেবিলে আর্সেনাল শীর্ষে আছে ঠিকই, কিন্তু এই ম্যাচ প্রমাণ করল—যেখানে ম্যানসিটি ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেয়, সেখানে আর্সেনাল এখনো সেই নির্মমতা অর্জন করতে পারেনি।

চেলসি যদিও তৃতীয় স্থানে থাকল, তাদের খেলার মান—বিশেষত ডিফেন্স—দলটিকে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে।