নোয়াখালীর আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের দুই শাখার ম্যানেজার আলমগীর হোসেন ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ১০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলমগীর হোসেন ভুয়া গ্রাহকদের নামে ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া চালিয়েছেন, যেখানে অধিকাংশ গ্রাহকের অস্তিত্ব ছিল না। তিনি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদন করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে ছিলেন।
গ্রেপ্তার: চট্টগ্রাম থেকে র্যাবের অভিযানে
গত ২৯ নভেম্বর রাতে র্যাব-১১ এর একটি দল চট্টগ্রাম শহরের একটি বাসা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ের তদন্ত টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি শাখা থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুদক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।
দুদক ও ব্যাংকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট গত ২০ অক্টোবর ব্যাংকের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে অসংখ্য অনিয়ম এবং জালিয়াতির প্রমাণ পায়। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, আলমগীর হোসেন আনসার সদস্যদের নামে ঋণ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন। ঋণগ্রহীতাদের বেশিরভাগই ছিলেন ভুয়া, অর্থাৎ তাদের প্রকৃত অস্তিত্ব ছিল না। এই জালিয়াতি ঘটনা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে দুদক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া
দুদক নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে র্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্তে আরও বড় চিত্র উঠে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই ধরনের ঘটনা ব্যাংকিং সেক্টরে এক বিরাট আঘাত। তারা ভবিষ্যতে এমন ধরনের জালিয়াতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
এই ঘটনা থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। যেমন, ব্যাংকিং সেক্টরে নিরাপত্তা এবং যাচাইকরণের পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করা জরুরি। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে ঋণ প্রদানের সময় গ্রাহকদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য যাচাই করা এবং এমন ধরনের জালিয়াতি যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
