ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে

ইন্দোনেশিয়ায় গত কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা এবং ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে পশ্চিম সুমাত্রা আঞ্চলিক দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র ইলহাম ওয়াহাব জানান যে, কেবল এই প্রদেশেই এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া নিখোঁজ থাকা আরও প্রায় ৯০ জনকে উদ্ধারে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে পশ্চিম সুমাত্রায় নিহতের সংখ্যা ২৩ জন বলা হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় তা সংশোধন করা হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর সুমাত্রায়, যেখানে এখন পর্যন্ত ১১৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আচেহ প্রদেশে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহের নিরবচ্ছিন্ন বর্ষণ ও তীব্র ঝড়ো বাতাসের কারণে আচেহ ও পশ্চিম সুমাত্রার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনপদে রূপ নিয়েছে। বহু ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

[Table of Casualty Estimates by Region] | অঞ্চল (Region) | নিহতের সংখ্যা (Confirmed Deaths) | | :— | :— | | উত্তর সুমাত্রা | ১১৬ | | পশ্চিম সুমাত্রা | ৬১ | | আচেহ প্রদেশ | ৩৫ | | মোট | ২১২ |

শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে অনেক দুর্গত এলাকায় এখনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লা নিনা প্রভাবের কারণে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়েছে, তবে ভারী যন্ত্রপাতি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, যেখানে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

জিলাইভ/টিএসএন