ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মেধাবী কলেজছাত্রী নিহত: এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সাহিদা আক্তার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রী মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাহিদা ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদি গ্রামের শাহাদাত শেখের মেয়ে। তিনি এ বছর ভাঙ্গা মহিলা কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহিদা সকালে প্রয়োজনীয় কাজে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি অজ্ঞাত দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এক মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিকে আটক করার দাবি জানিয়ে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. রাসেল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক কলেজছাত্রী বাসের ধাক্কায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মারা গেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক করি।” তিনি আরও জানান যে, ঘাতক বাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিহত সাহিদার পরিবারে এখন চলছে মাতম। তার সহপাঠীরা সড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই মহাসড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে, যা রোধে প্রশাসনের আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

জিলাইভ/টিএসএন