রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে ফাঁকা বুলি? টিআইবির তীব্র সমালোচনা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধনের খসড়া অধ্যাদেশে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব—“বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি”—চূড়ান্ত সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির ভাষায়, দুদকের নিয়োগ ও কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তির মূল শর্তই উপেক্ষিত হয়েছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতিকে সন্দেহের মুখে ঠেলে দেয়।

টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, দুদককে একটি নিরপেক্ষ ও জবাবদিহির আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য কমিটি গঠন ছিল মৌলিক কৌশলগত প্রস্তাব। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দুদক প্রায়ই ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতে প্রতিপক্ষকে টার্গেট করে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—এ অভিযোগ দেশ-বিদেশে বহুবার উঠেছে। তাই এই কমিটি ছাড়া দুদককে প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা দেওয়ার পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ল।

জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সম্মতির পরও প্রস্তাবটি বাদ যাওয়া সরকারের অন্তর্গত শক্তি–সামঞ্জস্যের সংকটকেই নির্দেশ করে বলে মনে করে টিআইবি। তাদের দাবি, সংস্কারবিরোধী প্রভাবশালী মহলের চাপেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্যকেই ক্ষুণ্ন করে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদক গত দুই দশকে নানা বিতর্ক, ক্ষমতাসীনদের প্রভাব এবং পক্ষপাতমূলক অভিযানের অভিযোগে জন–আস্থা হারিয়েছে। ফলে একটি নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি ছাড়া দুদকের বৈধতা ও নিরপেক্ষতা পুনর্গঠনের কোনো পথ নেই। তাঁর দাবি, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে অন্তত সাতজন উপদেষ্টা সুপারিশটির বিরোধিতা করেছেন, যদিও রাজনৈতিক দলগুলো এতে একমত ছিল—যা আরও বড় প্রশ্ন তোলে সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সংস্কার-ইচ্ছাকে নিয়ে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—“দুদককে জবাবদিহির বাইরে রেখে কী ধরনের রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব? দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কাঠামোই যদি বাদ দেওয়া হয়, তবে সরকার কি দেশবাসীকে এই বার্তা দিচ্ছে যে রাষ্ট্র সংস্কার কেবলই কথার ফুলঝুরি?”

যদিও টিআইবি খসড়া আইনের কিছু অংশের উন্নতি দেখে সরকারকে প্রশংসা করেছে, তবু তাদের মতে চূড়ান্ত অধ্যাদেশে একাধিক ঐকমত্য-ভিত্তিক প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব বাদ দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ক্ষমতা-রক্ষা এবং দুর্নীতি-সহায়ক অবস্থানই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ।