বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু হতে চলেছে, যা দুই দেশের মধ্যে কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সরাসরি ফ্লাইট সাধারণ যাত্রীদের জন্য সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে দুই দেশের সংযোগকে শক্তিশালী করবে।
পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হুসেইন খান লাহোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এলসিসিআই) অনুষ্ঠানে জানান, সরাসরি ফ্লাইট চালু করা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিকরা তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ভিসা পাবেন, যা মানুষের চলাচলকে আরও দ্রুততর করবে।
হাইকমিশনার বলেন, বাণিজ্যিক দিক থেকে পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল রপ্তানি করতে পারবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ পাকিস্তানে সরবরাহ করতে পারবে তাজা আনারস। এছাড়াও, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতেও বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি চালু হওয়া একটি কার্গো সেবাকে নিয়মিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা বাণিজ্যিক লেনদেনের গতি বৃদ্ধি করবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন শিগগিরই ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল পাঠাবে, যাতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে পাকিস্তানে পড়াশোনা করতে উৎসাহিত করা যায়। হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশের যৌথ সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে পর্যটন খাতেও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জিন্নাহ এবং এয়ার সিয়াল নামের দুটি পাকিস্তানি বেসরকারি বিমান সংস্থা সম্প্রতি বাংলাদেশের বেবিচকের অনুমোদন পেয়েছে। এতে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়া বৈধতা পেয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন এই বিমান সংযোগ কার্যকর হতে পারে।
