শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েতে ডাকাতির শিকার দুই গরু ব্যবসায়ী, ৪ লাখ টাকা ছিনতাই

মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়কে বুধবার (১৯ নভেম্বর) ভোর ৬টার দিকে দুই গরু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে চার লাখ টাকা ছিনতাই করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ঘটনাস্থলটি বন্দরখোলা চৌরাস্তা এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দুই ব্যবসায়ী শিবচরের পাঁচ্চর এলাকা থেকে গরু কিনে পিকআপভ্যানে টেকেরহাট যাচ্ছিলেন। বন্দরখোলা চৌরাস্তার কাছে পৌঁছালে একটি প্রাইভেট কার তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। পিকআপভ্যান থামিয়ে গাড়িটির সমস্যা যাচাই করতে গেলে প্রাইভেট কারে থাকা চারজন ডাকাত তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।

হামলাকারীরা আক্রমণ চালিয়ে ব্যবসায়ীদের কুপিয়ে আহত করে এবং সঙ্গে থাকা চার লাখ টাকা ছিনিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আহত ব্যবসায়ী রাজন মোল্লা (৬০) ও আলাউদ্দিন দেওয়ান (৬৭)কে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজন মোল্লা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “আমরা পিকআপভ্যানে করে টেকেরহাট যাচ্ছিলাম। বন্দরখোলা চৌরাস্তার কাছে একটি প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম গাড়িটি নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়িটি দেখার চেষ্টা করলে চারজন ডাকাত আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তারা আমাদের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।”

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই ও তদন্ত করছি। প্রত্যক্ষদর্শী এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আমরা হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়কগুলোয় এই ধরনের সশস্ত্র ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। প্রাইভেট গাড়িতে ছিনতাইকারীরা একত্রে হামলা চালানোর ঘটনা নির্দেশ করে যে, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অবস্থান নিয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, চৌরাস্তা এলাকাটি প্রায় সময় বেশ ব্যস্ত থাকে, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে। সড়ক নিরাপত্তার অভাব এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক মনিটরিং না থাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে যারা পণ্য বা পশু নিয়ে সকাল-বিকেল সড়ক ব্যবহার করে।

এই ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং রাউন্ডে পেট্রোল চালানোর বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রথমে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে হামলাকারীদের ধরার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা পুলিশকে সহযোগিতা করতে এবং অনুরূপ ঘটনায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।