রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কে শান্তি বৈঠকের সম্ভাবনা

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নতুন করে গতি পাচ্ছে। তুরস্কে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুর্কি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এ হাবের’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই শান্তি সংলাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে এবং তুরস্ক এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করবে বলে তার বিশ্বাস।

ফিদান জানান, ইউক্রেন ইস্যুতে শান্তি আলোচনার আয়োজন তুরস্কে হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, “আমার ধারণা—এটি তুরস্কেই হবে। অন্য কোথাও হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না; তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তির জন্য সময়টি অত্যন্ত অনুকূল এবং দ্রুতই তা বাস্তবে রূপ নিতে পারে।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তুরস্ক আবারও একটি গ্রহণযোগ্য মঞ্চ হয়ে উঠছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চলমান সংঘাত বর্তমানে সমাপ্তির সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা দেখছি, যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো এখন পরিপক্ব হয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ, সামরিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে এই যুদ্ধ থামার দ্বারপ্রান্তে।” এ বক্তব্যে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে পর্দার আড়ালে যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তা একটি কার্যকর ফলাফলের দিকে এগোচ্ছে।

ফিদান জোর দিয়ে বলেন, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো আলোচনার আনুষ্ঠানিক সূচনা এবং শান্তির পথে অগ্রযাত্রার জন্য বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া। তিনি জানান, তুরস্ক ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি, মানবিক করিডর সম্প্রসারণ, বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা নির্ধারণ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের এই সক্রিয় ভূমিকার পেছনে রয়েছে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান, ন্যাটোর সদস্যত্ব এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার সক্ষমতা। অতীতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে শস্য রপ্তানি উদ্যোগসহ বিভিন্ন মানবিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাই এবার নতুন করে শান্তি আলোচনার ভিত্তি মজবুত করছে।

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ফলে এই সংঘাতের অবসান কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্কে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা তাই বিশ্ব কূটনীতির নজর কেড়েছে।

নিচের সারণিতে রাশিয়া–ইউক্রেন ইস্যুতে তুরস্কের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়বিবরণ
মধ্যস্থতাকারী দেশতুরস্ক
সম্ভাব্য বৈঠকের স্থানতুরস্ক (সম্ভাব্য)
আলোচনার লক্ষ্যযুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি
তুরস্কের প্রস্তাবধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি, মানবিক করিডর, নিরাপত্তা কাঠামো
আন্তর্জাতিক গুরুত্বইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা

সব মিলিয়ে, হাকান ফিদানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ একটি নির্ধারক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তুরস্কে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা সফল হলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে অস্থির হয়ে থাকা পুরো অঞ্চলের জন্যই স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে।