জগন্নাথপুরে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ: মামলার পর আসামি গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক অমানবিক ও নৃশংস অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোস্তাকিম মিয়া (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের পর গতকাল রবিবার (১৬ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্য ও লোমহর্ষক বিবরণ
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে। স্থানীয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি জন্মগতভাবেই বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। ঘটনার দিন রাতে সে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে বের হলে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী যুবক মোস্তাকিম মিয়া তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিশুটিকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় ওই যুবক।
শারীরিক যন্ত্রণায় শিশুটি আর্তচিৎকার করার চেষ্টা করলে তার অস্ফুট শব্দে বাড়ির লোকজন জেগে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত মোস্তাকিম দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে নিজের ঘরে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে বিধ্বস্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। শিশুটি তার সীমাবদ্ধতার কারণে কথা বলতে না পারলেও ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার ওপর হওয়া অমানবিক নির্যাতনের কথা পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে বলে।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের তৎপরতা
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর বড় ভাই বাদী হয়ে গত শনিবার (১৫ নভেম্বর) জগন্নাথপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামের নজরুল মিয়ার ছেলে মোস্তাকিম মিয়াকে একমাত্র আসামি করা হয়। মামলার পরপরই জগন্নাথপুর থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঞা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত পরিচালনা করছে যাতে অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।
