শেষ মুহূর্তের ত্রুটিতে ড্র বাংলাদেশের, হামজা চৌধুরীর ঝলক যথেষ্ট হলো না

বাংলাদেশ ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ২-২ ড্রতে সন্তুষ্ট হতে হলো। নিয়মিত ৯০ মিনিটে লাল-সবুজ দল ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে সমতা গোল হজম করে। অনন্ত তামাং দলের জন্য গোল করলেও পুরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ হয়ে যায়। এর আগে ৯ অক্টোবর হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ মুহূর্তের গোল হজমও একই রকম হতাশা সৃষ্টি করেছিল।

ম্যাচটি ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খেলানো হয়। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন। তবে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ খেলোয়াড়রা ছন্নছাড়া থাকায় এক গোল পিছিয়ে পড়ে। রোহিত চাঁদের গোল এবং বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমারের কিছু ভুল এই অবস্থার জন্য দায়ী।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ সাজানো বাংলাদেশ ত্বরান্বিত হয়ে যায়। হামজা চৌধুরীর দুটি চোখ ধাঁধানো গোল—প্রথমটি বাইসাইকেল কিক, দ্বিতীয়টি পেনাল্টি—দেখিয়েছে তার দক্ষতা এবং দলকে নিয়ন্ত্রণে আনার সামর্থ্য। এই গোলগুলো তার লাল-সবুজ জার্সিতে চতুর্থ। এছাড়া কাবরেরা কিছু নতুন খেলোয়াড় পরীক্ষা করেন, যেমন শমিত সোম ও কিউবা মিচেল।

তবে শেষের দিকে মনোযোগের অভাব এবং ডিফেন্সিভ সংহতির ঘাটতি বাংলাদেশের জয় ছিনিয়ে নেয়। এই অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে দেয়, আক্রমণ শক্তিশালী হলেও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সংহতি ও মানসিক স্থিরতা অপরিহার্য। এছাড়া, ফিটনেস এবং সময়মতো স্ট্র্যাটেজিক পরিবর্তনের গুরুত্বও ফুটে ওঠে।

নির্ধারিত সময়ের পরও গোল হজম করা বাংলাদেশের জন্য চিন্তার বিষয়। ১৮ নভেম্বর ভারতের সঙ্গে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে এই ত্রুটিগুলো দূর করতে হবে। এই ম্যাচের বিশ্লেষণ কোচ কাবরেরা এবং তার স্টাফদের জন্য ভবিষ্যতের প্রস্তুতির নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।