আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে। মামলায় প্রধান আসামি শেখ হাসিনার সঙ্গে রয়েছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার যে কোনো প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাইব্যুনালে রায় প্রদানের ঘটনা।
প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইছে। তবে মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি সত্য ঘটনা স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ হয়েছেন। মামুন নিজে খালাস চেয়েছেন নিজ অর্থে নিয়োগ করা আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদের মাধ্যমে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলা দাখিল করা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। এটি প্রথমবার ট্রাইব্যুনালে যে কোনো আসামি ‘অ্যাপ্রুভার’ হয়েছেন।
বিচার প্রক্রিয়া দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে। বিটিভি ও অন্যান্য মাধ্যমের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসে বিচার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে পারছেন।
প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম জানিয়েছেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো ও হত্যার নির্দেশ। প্রসিকিউশন মনে করছে, আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত।
আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ায় তার শাস্তি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার। ট্রাইব্যুনাল তাকে পুরোপুরি খালাস দিতে পারে, সীমিত সাজা দিতে পারে, বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে।
