ইসরায়েলের ভূগর্ভস্থ রাকেফেত কারাগারে অমানবিক আটক অবস্থা

ইসরায়েল একটি ভূগর্ভস্থ গোপন কারাগার রাকেফেতে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে এমন পরিবেশে আটক রেখেছে যেখানে তারা সূর্যের আলো দেখেন না, পর্যাপ্ত খাবার পান না এবং পরিবার বা বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে। মানবাধিকার আইনজীবী ও সংগঠন পিসিএটিআই এই অবস্থাকে গুরুতর লঙ্ঘন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আটকদের মধ্যে দুজন সাধারণ নাগরিক—একজন পুরুষ নার্স এবং এক তরুণ খাবার বিক্রেতা—যাদের যথাক্রমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আটক করে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রাকেফেতে স্থানান্তর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার প্রকাশ করা হয়নি। পিসিএটিআই আইনজীবীরা বলছেন, তাদের মাসের পর মাস অজানা অবস্থায় রাখা হয়েছে।

রাকেফেত কারাগারটি ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে উচ্চঝুঁকির অপরাধীদের জন্য চালু হলেও অমানবিক পরিবেশের অভিযোগে ১৯৮৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কারাগারটি পুনরায় চালু করেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, এখানে হামাস বা হিজবুল্লাহর বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের রাখার পরিকল্পনা রয়েছে; তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনেক সাধারণ নাগরিকও কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রয়েছেন।

কারাগারের সবকিছু—কক্ষ, ব্যায়াম মাঠ, সাক্ষাৎ কক্ষ—সবই মাটির নিচে হওয়ায় বন্দীরা সম্পূর্ণভাবে আলোবঞ্চিত। অতীতে এখানে ১৫ জন বন্দী থাকলেও এখন প্রায় ১০০ জন রাখা হয়েছে। গাজা যুদ্ধবিরতির পর ২৫০ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ও ১,৭০০ জন আটক ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিলেও এখনও অন্তত এক হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি জেলে রয়েছে বলে জানানো হয়।

আইনজীবীরা বলেন, রাকেফেতের কক্ষগুলো নোংরা, জানালাবিহীন; শৌচাগার অকার্যকর; বন্দীরা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপমান ও মারধরের শিকার হন। প্রতি দুই দিনে কয়েক মিনিটের জন্য মাত্র একটি সংকীর্ণ খোলা স্থানে আনা হয় আলো দেখানোর জন্য। ভোর চারটায় তাদের বিছানা সরিয়ে নেওয়া হয় এবং রাতে ফের দেওয়া হয়।

চিকিৎসা সেবা অনিয়মিত, খাবার অপ্রতুল এবং কুকুর দিয়ে ভয় দেখানোসহ বিভিন্ন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনজীবী ও তদন্তকারীরা বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত আদেশে সম্পন্ন হয় এবং আইনজীবীর সাথে কথা বলার সময়ও সীমিত। পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলেই সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পিসিএটিআই-এর নির্বাহী পরিচালক তাল স্টেইনার বলেন, এখানে সাধারণ নাগরিকদের অবস্থাই মানবতাবিরোধী আচরণের মতো এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক-মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গেও এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো রাকেফেত কারাগারের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে এবং অবিলম্বে কঠোর আচরণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

জিলাইভ/টিএসএন