দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আগামী রবিবার সারা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাছুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দাবি বাস্তবায়ন এবং পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রবিবার শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে।”
এদিকে, শনিবার শিক্ষকদের ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচি পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ভণ্ডুল করেছে। বিকেলে শিক্ষকেরা কলম সমর্পণ কর্মসূচি পালন করতে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের বাধা দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্ল্যাটফর্ম ‘প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাছুদ বলেন, “কলম সমর্পণ কর্মসূচি শেষ করার পর আমাদের শহীদ মিনারে ফিরে আসা উচিত ছিল। তবে পুলিশি হামলায় শাহবাগে অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।”
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিকেলে এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশের নির্দেশনা অমান্যকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ থাকলেও আন্দোলনকারীরা তা উপেক্ষা করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে।
শিক্ষকেরা সকাল থেকে শহীদ মিনারে তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দশম গ্রেডে বেতনের পাশাপাশি তাদের বাকি দুই দাবি হলো—চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে চারটি শিক্ষক সংগঠনের মোর্চার ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ মোর্চায় প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) অন্তর্ভুক্ত।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫,৫৬৭। এসব বিদ্যালয়ে ৩,৮৪,০০০ শিক্ষক কর্মরত আছেন।
গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে সহকারী শিক্ষকেরা এই উদ্যোগে সন্তুষ্ট নন। আজ থেকে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের একটি অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের প্রতি সময়সীমা বেঁধেছে। তাদের দাবির কোনো অগ্রগতি না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচি পালন করারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
