চট্টগ্রামে আবারও গুলিবিদ্ধ, অটোরিকশাচালক হাসপাতালে

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চালিতাতলী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত বুধবারের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এবার দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন মো. ইদ্রিস (৪০) নামের এক সাধারণ অটোরিকশাচালক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আহতের অবস্থা

বৃহস্পতিবার বিকেলে চালিতাতলী এলাকায় হঠাৎ করেই গোলাগুলি শুরু হয়। এসময় নিজ পেশাগত কাজে নিয়োজিত অটোরিকশাচালক ইদ্রিস গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক তাঁর ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইদ্রিসের পরিবারের দাবি, এলাকায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণ অটোরিকশাচালক হওয়া সত্ত্বেও ইদ্রিস স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করতেন। তাঁদের ধারণা, এই প্রতিবাদের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে।


পর পর দুই দিনের রক্তক্ষয়ী সহিংসতা

চালিতাতলী এলাকায় গত দুই দিনে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

তারিখআক্রান্ত ব্যক্তিপরিচয় ও ফলাফল
৫ নভেম্বর (বুধবার)এরশাদ উল্লাহ ও সরোয়ার বাবলাবিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ; শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা নিহত।
৬ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)মো. ইদ্রিসঅটোরিকশাচালক; মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় গুলিবিদ্ধ ও চিকিৎসাধীন।

শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবলার মৃত্যু ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা

বুধবারের (৫ নভেম্বর) ঘটনায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি ছিল সবচেয়ে আলোচিত। সেই একই ঘটনায় শহরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা নিহত হন। বাবলার মৃত্যু এবং রাজনৈতিক প্রার্থীর ওপর হামলার পর এলাকাটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, ওই ঘটনার রেশ ধরেই বৃহস্পতিবারের এই দ্বিতীয় দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।


পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও স্থানীয়দের উদ্বেগ

গোলাগুলির মতো গুরুতর ঘটনা ঘটলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা সন্তোষজনক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।

মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসীদের আধিপত্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব—এই তিনের সংমিশ্রণে চালিতাতলী এলাকাটি বর্তমানে একটি ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং মাদকের আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে না দিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।