বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে ভারতের সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার বাস্তব স্বীকৃতি নয়, বরং ১৯৬৫ সালের পাকিস্তানের সঙ্গে লজ্জাজনক পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া। তিনি বলেন, ভারত আওয়ামী বাকশালীদের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল। তবে আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী একাত্তরে আত্মসমর্পণ করলেও সেটি ভারতের সেনাবাহিনীর কাছে হয়েছিল। ফলে প্রতিবেশী দেশটি ১৬ ডিসেম্বরকে তাদের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে, যা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান হিসেবে দেখা যায়। তিনি বলেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঐতিহাসিক স্থান। এখানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু ভারতীয় আধিপত্য ও দেশীয় এজেন্টদের কারণে আমরা পুরোপুরি বিজয়ের স্বাদ পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, পাক বাহিনী সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ না করে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা জগজিৎ সিং আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী অনুপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে আজও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। এই অবস্থার জন্য ভারতের আচরণকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা শুধু ভূখণ্ড অধিকার নয়, বরং গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা প্রকৃত স্বাধীনতা। তিনি হাদির ওপর হামলার বিষয়েও মন্তব্য করেন। হাদি একজন জাতীয় বীর এবং নির্বাচনের একদিন আগে তার ওপর হামলা হয়েছে, যা প্রমাণ করে জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের সভাপতি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ ও ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।
