সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর বাংলাদেশি প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামে। দীর্ঘ ১৫ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখলেও সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে অবস্থিত একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই ক্যাম্পটি আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির শ্রমিকদের জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলায় আবদুল্লাহ আল মামুন গুরুতর আহত হন এবং দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামুন ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তাঁর বাবা শহীদ সওদাগর ও মা শাহিদা খাতুন। তিন ভাই ও তিন বোনের বড় পরিবারে তিনি ছিলেন অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। প্রায় দেড় দশক আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সর্বশেষ পাঁচ বছর আগে দেশে এসেছিলেন। তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০) এবং ছয় বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মাহেদী শেখকে রেখে তিনি আবারও প্রবাসে ফিরে যান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল ফিতরের এক মাস পরই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। পরিকল্পনা ছিল উপার্জিত অর্থ দিয়ে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের। কিন্তু আকস্মিক এই মৃত্যুতে পরিবারের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মা শাহিদা খাতুন সন্তানের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন। বাবা শহীদ সওদাগরও একই দাবি জানিয়ে বলেন, পরিবারের একমাত্র ভরসা হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। বিশেষ করে নাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর যথাযথ দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং পরবর্তীতে পরিবারটির পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিচে নিহত ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | আবদুল্লাহ আল মামুন |
| বয়স | ৩৫ বছর |
| বাড়ি | ভরভরা গ্রাম, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ |
| পেশা | প্রবাসী শ্রমিক |
| প্রবাসকাল | প্রায় ১৫ বছর |
| পরিবারের সদস্য | স্ত্রী ও ১ ছেলে |
| মৃত্যুর কারণ | ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে মৃত্যু |
| মৃত্যুর তারিখ | মঙ্গলবার (স্থানীয় সময় রাত ১১:৩০) |
প্রবাসী আয়নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এমন ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে।
