অবশেষে দীর্ঘ ৩৯ বছরের হতাশা, ব্যর্থতা ও অপেক্ষার অবসান ঘটাল মোজাম্বিক। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) মঞ্চে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে শক্তিশালী গ্যাবনকে ৩–২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকার এই দলটি। এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের আনন্দ নয়, বরং মোজাম্বিক ফুটবলের ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়।
এর আগে আফকনের মূল পর্বে অংশ নিয়ে ১৬ ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি মোজাম্বিক। সেই দীর্ঘ জয়ের খরা কাটাতে সময় লেগেছে প্রায় চার দশক। অবশেষে গতকাল রাতে সেই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ল ‘মাম্বাস’ খ্যাত দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মোজাম্বিক। বল দখল ও আক্রমণে তারা ছিল আত্মবিশ্বাসী। তারই পুরস্কার আসে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে, যখন ফয়সাল বাংলা নিখুঁত হেডে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন। মাত্র পাঁচ মিনিট পর, ৪২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জেনি কাটামো। প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ায় মোজাম্বিককে তখন পরিষ্কার ফেবারিট মনে হচ্ছিল।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং রিবাউন্ড থেকে গোল করে গ্যাবনকে ম্যাচে ফেরান। ফলে বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২–১।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আবার আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে মোজাম্বিক। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে দিয়োগো ক্যালিলা হেড থেকে গোল করে ব্যবধান আবার দুই গোলে নিয়ে যান। কিন্তু গ্যাবনও হাল ছাড়েনি। ৭৬ মিনিটে কর্নার থেকে আসা আলগা বল জালে পাঠিয়ে অ্যালেক্স মুকেতু-মুসুন্দা ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা যোগ করেন।
শেষ ২০ মিনিটে দুই দলই মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩–২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোজাম্বিক, আর উদযাপনে মেতে ওঠে খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত তথ্য :
| বিষয় | তথ্য |
| ম্যাচ | মোজাম্বিক বনাম গ্যাবন |
| ফলাফল | মোজাম্বিক ৩–২ গ্যাবন |
| টুর্নামেন্ট | আফ্রিকা কাপ অব নেশনস |
| মোজাম্বিকের গোলদাতা | ফয়সাল বাংলা, জেনি কাটামো, দিয়োগো ক্যালিলা |
| গ্যাবনের গোলদাতা | পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং, অ্যালেক্স মুকেতু-মুসুন্দা |
এই জয়ের ফলে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১০২ নম্বরে থাকা মোজাম্বিক গ্রুপ ‘এফ’-এর সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। তিন ম্যাচ শেষে সমান পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে শীর্ষে থাকা আইভরি কোস্ট ও ক্যামেরুনের সঙ্গেও তাদের পয়েন্ট ব্যবধান নেই।
অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে হারের কারণে গ্যাবনের নকআউট পর্বে ওঠা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সামনে তাকিয়ে মোজাম্বিকের সামনে সুযোগ আরও বড় ইতিহাস গড়ার—পরের ম্যাচে ক্যামেরুনকে হারাতে পারলে তারা পৌঁছে যেতে পারে নকআউট পর্বে। আর গ্যাবনের সামনে একটাই পথ খোলা—টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে আইভরি কোস্টকে হারানোর বিকল্প নেই।
৩৯ বছর পর এই জয় প্রমাণ করল, অপেক্ষা যত দীর্ঘই হোক—ইতিহাস বদলানো একদিন না একদিন সম্ভব।
