সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর, উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুদকৃত পেট্রল ও ডিজেল জব্দ করেছে প্রশাসন। দুই দিনের এসব অভিযানে মোট ৩ হাজার ৮২৯ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট তিন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জ্বালানি খাতে অনিয়ম, অবৈধ মজুদ ও অনুমোদনহীন বিক্রয় রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
কাজিপুর উপজেলায় ভোররাতে পরিচালিত অভিযানে সোনামুখি বাজারের একটি অনুমোদনহীন জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৭২৯ লিটার পেট্রল ও ডিজেল জব্দ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী কোনো বৈধ কাগজপত্র বা অনুমোদন দেখাতে পারেননি। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের অবৈধ মজুদ স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ায়।
অন্যদিকে, উল্লাপাড়া উপজেলার চড়িয়া এলাকায় বিকেলে আরেকটি অভিযানে ১ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, দোকানের ভেতরে গোপনে একটি মিনি পাম্প স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় দোকান মালিকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই দিনে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ১০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। দুটি পানির ট্যাংকের মধ্যে জ্বালানি সংরক্ষণ করে তা বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে জানা যায়। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত জ্বালানি সরকারি নিয়ম অনুসারে নিকটস্থ পাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতে অনিয়ম রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ ও বিক্রি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।
অভিযানের সারসংক্ষেপ
| উপজেলা | জব্দ জ্বালানি (লিটার) | জরিমানা (টাকা) | অপরাধের ধরন |
|---|---|---|---|
| কাজিপুর | ১,৭২৯ | ১০,০০০ | অনুমোদনহীন মজুদ ও বিক্রি |
| উল্লাপাড়া | ১,০০০ | ১০,০০০ | অবৈধ মিনি পাম্পে বিক্রি |
| রায়গঞ্জ | ১,১০০ | ৫,০০০ | গোপনে ট্যাংকে মজুদ |
| মোট | ৩,৮২৯ | ২৫,০০০ | — |
এ ধরনের অভিযানের ফলে জ্বালানি বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কার্যকর বার্তা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
