মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এক প্রভাবশালী কীটনাশক ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে যাওয়ার পথে কোমরপুর নামক স্থানে এই দুঃসাহসিক ঘটনাটি ঘটে। অপহৃত মাহিদ হোসেন (২০) বাবুপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমির উদ্দিনের ছেলে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মাহিদ তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিয়াদ ও জুনায়েদকে সঙ্গে নিয়ে কোমরপুর বাজার থেকে কাজ সেরে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম বাবুপুরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কোমরপুর এলাকার মশিউর রহমানের ইটভাটার কাছে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র অপহরণকারী তাঁদের গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাশের একটি নির্জন মাঠের গভীর অন্ধকারে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর রিয়াদ ও জুনায়েদকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মাহিদকে নিজেদের জিম্মায় রেখে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
ঘটনার বিস্তারিত এবং বর্তমান অবস্থা নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
মাহিদ হোসেন অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির তথ্যাবলি
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
| অপহৃত ব্যক্তির নাম | মাহিদ হোসেন |
| পিতার নাম ও পরিচয় | আমির উদ্দিন (কীটনাশক ব্যবসায়ী) |
| অপহরণের সময় | মঙ্গলবার রাত ৯:০০ মিনিট (৬ জানুয়ারি) |
| ঘটনাস্থল | মশিউর রহমানের ইটভাটার নিকটবর্তী এলাকা, কোমরপুর |
| মুক্তিপণের পরিমাণ | ৩০,০০,০০০ (ত্রিশ লাখ) টাকা |
| তদন্তকারী সংস্থা | মুজিবনগর থানা পুলিশ |
| বর্তমান পরিস্থিতি | উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান |
মাহিদের পরিবার জানিয়েছে, অপহরণের কিছুক্ষণ পরেই তাদের কাছে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপ্রান্ত থেকে বলা হয়, মাহিদকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে হলে দ্রুত ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধ করতে হবে। মুক্তিপণের এই বিপুল অংকের টাকা দাবির পর থেকেই মাহিদের বাবা আমির উদ্দিনসহ স্বজনরা গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তাদের ধারণা, স্থানীয় কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র মুক্তিপণের উদ্দেশ্যেই আগে থেকে পরিকল্পনা করে এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক দ্রুত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি অপহৃতের বন্ধুদের কাছ থেকে অপরাধীদের শারীরিক বর্ণনা ও ঘটনার ধরন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ওসি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। মাহিদকে উদ্ধারে এবং অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।” এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
