ভারতের গুজরাট রাজ্যের পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতি ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ৩০ বছর জেল খেটেছেন। তবে দীর্ঘ আদালতের লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি গুজরাট হাইকোর্ট তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রায় ঘোষণার পরদিনই বাবুভাই প্রজাপতির জীবনাবসান ঘটে।
১৯৯৬ সালে আহমেদাবাদে দায়িত্বরত বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি ২০ রুপি ঘুষ গ্রহণ করেছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
তার বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি নিম্নরূপ:
| সাল | ঘটনা | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ১৯৯৭ | চার্জশিট দাখিল | সেশনস কোর্টে মামলাটি দাখিল হয়। |
| ২০০২ | অভিযোগ গঠন | আদালত অভিযোগ গঠন করে। |
| ২০০৩ | সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু | প্রমাণ উপস্থাপনার জন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। |
| ২০০৪ | সেশনস কোর্ট রায় | বাবুভাইকে ৪ বছরের কারাদণ্ড ও ৩,০০০ টাকা জরিমানা ধার্য হয়। |
| ২০০৪–২০২৬ | হাইকোর্ট আপিল ঝুলে থাকা | ২২ বছর ধরে বাবুভাইয়ের আপিল মুলতুবি থাকে। |
| ২০২৬, ৪ ফেব্রুয়ারি | হাইকোর্ট রায় | বাবুভাইকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। |
হাইকোর্ট জানায়, মামলার প্রমাণপত্রে গুরুতর অসঙ্গতি ছিল এবং সাক্ষীদের বয়ান বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রসিকিউশন প্রমাণিত করতে ব্যর্থ হয়। বাবুভাইয়ের পক্ষে আইনজীবী নীতিন গান্ধী বলেন, “মামলাটি কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। কোনও বাস্তব প্রমাণ ছিল না।”
রায় ঘোষণার পর বাবুভাই বলেন, “আমার জীবনের কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন যদি ঈশ্বর আমাকে তুলে নেন, তবুও কোনো আক্ষেপ থাকবে না।” তিনি এই কথাগুলো বলার পর বাড়ি ফিরে যান। পরদিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানিয়েছেন, “তিনি যদি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতেন, তবে সত্যিই আনন্দের সময় হতো।” আইনজীবী নীতিন গান্ধী আরও জানালেন, “রায়ে খালাস পাওয়ার পর তিনি অত্যন্ত খুশি ছিলেন। আমি তাকে জানিয়েছিলাম যে, সরকার থেকে তার প্রাপ্য সুবিধার জন্য আবেদন করা উচিত। পরের দিন জানলাম, তিনি হঠাৎ হৃদরোগে মারা গেছেন।”
৩০ বছরের কারাভোগ এবং দীর্ঘ লড়াই শেষে বাবুভাই প্রজাপতির জীবন তাঁর নির্দোষতা নিশ্চিত হওয়ার মাত্র এক দিন পর শেষ হলো। এই ঘটনাটি ভারতের ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
