বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক-এ প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার জেরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন একজনকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বুধবার দুপুরে একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করে ব্যাংক প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
গভর্নরের আকস্মিক প্রস্থান ঘিরে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংকের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স কাউন্সিল-এর নেতারা পরিস্থিতির প্রতিবাদে সরব হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তারা সমবেত হয়ে এক ধরনের ‘মব’ বা গণচাপের পরিবেশ সৃষ্টি করেন, যা দ্রুতই অস্থিরতায় রূপ নেয়।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ-কে ব্যাংক প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করার সময় কিছু কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি একপর্যায়ে একজন ব্যক্তি তেড়ে আসার চেষ্টা করলে অন্যরা তাকে নিবৃত্ত করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মতে, ওই ব্যক্তি আঙুল উঁচিয়ে হুমকিসূচক ভঙ্গিতে উপদেষ্টাকে লক্ষ্য করে কথা বলেন, যা পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
আহসান উল্লাহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক বছরের চুক্তিতে গভর্নরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। তার প্রধান দায়িত্ব ছিল ব্যাংকের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে গভর্নরকে সহায়তা করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন মুদ্রানীতি, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকে, তখন প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নিচে ঘটনাটির মূল দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ ব্যাংক |
| গভর্নর | ড. আহসান এইচ মনসুর |
| উপদেষ্টা | আহসান উল্লাহ |
| ঘটনার সময় | বুধবার দুপুর |
| প্রধান ঘটনা | উপদেষ্টাকে ‘মব’ সৃষ্টি করে বের করে দেওয়া |
| প্রেক্ষাপট | নতুন গভর্নর নিয়োগের সম্ভাব্য প্রক্রিয়া |
এ ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে না পারলে ব্যাংকিং খাতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
