দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় অতিসংক্রামক রোগ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশু নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত ছিলেন এবং পাঁচ শিশুর মৃত্যু হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংক্রমণের সাম্প্রতিক চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ১১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২০ জন শিশু। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১,২৮২ শিশুর শরীরে হাম-উপসর্গ লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮০ শিশুর শরীরে হাম ভাইরাস নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিভাগভিত্তিক হাসপাতাল পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুরা সকলেই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের সংখ্যা ও সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া শিশুদের তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| বিভাগ | হাসপাতালে ভর্তি শিশু | সুস্থ হয়ে ছাড়া শিশু | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ঢাকা | ২৩৮ | ২৮৫ | সর্বোচ্চ নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার |
| রাজশাহী | ৯১ | ৭৫ | সংক্রমণ সামান্য নিয়ন্ত্রণে |
| চট্টগ্রাম | ৮৭ | ১১ | দ্রুত চিকিৎসা চলছে |
| খুলনা | ৬৩ | ৫২ | চিকিৎসা কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে |
| সিলেট | ৪৮ | ৪২ | উপসর্গযুক্ত শিশু চিকিৎসাধীন |
| রংপুর | ৪১ | ৩৫ | সতর্ক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত |
| বরিশাল | ৩৭ | ৩০ | টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে |
| ময়মনসিংহ | ৪৯ | ৪১ | হটস্পট এলাকায় পর্যবেক্ষণ তৎপর |
গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১৪ জন শিশু হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা ঢাকায় (২৮৫ জন) এবং চট্টগ্রামে (১১ জন)। যদিও সুস্থতার হার বাড়ছে, নতুন সংক্রমণের তীব্রতা এখনও কমেনি।
প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ ও টিকাদান কর্মসূচি
হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় দেশের ৩০টি উপজেলা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় রোববার থেকে এসব এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। অভিভাবকরা তাদের শিশুদের সঙ্গে জরুরি টিকাকেন্দ্রে ভিড় করছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সময়মতো টিকা প্রদান এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করলে হামের মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এছাড়া শিশুদের পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং উপসর্গ দেখা মাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
