২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার ছিনতাই হওয়া পিস্তল

নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সরকারি পিস্তল প্রায় ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বন্দর উপজেলার উইলসন রোডের র‍্যালি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এক পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)। তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকার বাসিন্দা এবং প্রয়াত মিজানুর রহমানের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ছিনতাই করা পিস্তলটি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ছিনতাই অভিযানে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরের দিকে নিতাইগঞ্জ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমান। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ছিনতাইকারী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে তাঁরা এএসআইয়ের কাছ থেকে গুলিভর্তি সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা ব্যাপারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে মিশালকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে বন্দর উপজেলার উইলসন রোড এলাকার একটি বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রটি কাপড়ে মোড়ানো একটি শপিং ব্যাগের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ছিল।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া পিস্তলের সঙ্গে দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলিও পাওয়া গেছে। একই অভিযানে আরও কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি চাপাতি, একটি ছোরা এবং একটি বড় চাকু রয়েছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
ছিনতাইয়ের স্থাননিতাইগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ শহর
সময়সোমবার ভোর
ভুক্তভোগীএএসআই লুৎফর রহমান
গ্রেপ্তার ব্যক্তিমো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)
উদ্ধারকৃত অস্ত্রসরকারি পিস্তল
গুলি১৬ রাউন্ড
ম্যাগাজিন২টি
অতিরিক্ত অস্ত্রচাপাতি, ছোরা, বড় চাকু
উদ্ধার সময়প্রায় ২২ ঘণ্টা পর

এ ঘটনায় শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমান বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দস্যুতা আইনে মামলা করেছেন। পাশাপাশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া মিশাল একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ছিনতাই হওয়া পিস্তলটি ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দাবি, সরকারি অস্ত্র ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও অভিযান পরিচালনার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অস্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।