২১ জানুয়ারি থেকে অভিবাসী ভিসা স্থগিত

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ঢাকা এক ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সিদ্ধান্তটি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ভিজিট বা পর্যটক ভিসার ক্ষেত্রে এ স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য নয়—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের ব্যাখ্যায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলকভাবে বেশি হারে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। মূলত অর্থনৈতিক দায় কমানো এবং অভিবাসন নীতিতে ভারসাম্য আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।

আবেদন ও সাক্ষাৎকার চলবে

স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ কার্যক্রমও চালিয়ে যাবে। অর্থাৎ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত ভিসা ইস্যু আপাতত বন্ধ থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের নীতি পরিবর্তন সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার থেকে প্রভাবিত হয়। অভিবাসন ইস্যু দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। সরকারি সহায়তা কর্মসূচির ওপর চাপ কমানো, কর্মসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার—এসব যুক্তি সামনে রেখে অতীতেও বিভিন্ন সময় অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।

অন্তর্ভুক্ত দেশের আঞ্চলিক চিত্র

বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশ। নিচে অঞ্চলভিত্তিক একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

অঞ্চলঅন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যাউল্লেখযোগ্য দেশ
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া১০+বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তান
মধ্যপ্রাচ্য৮+ইরান, ইরাক, কুয়েত, লেবানন
আফ্রিকা২০+নাইজেরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, ঘানা
ইউরোপ১০+আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, রাশিয়া
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয়১৫+ব্রাজিল, কিউবা, হাইতি, জ্যামাইকা

নীতিটি কার্যকর হলে পারিবারিক পুনর্মিলন, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাস এবং ডাইভারসিটি ভিসা—সব ধরনের অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদি হবে কি না, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি পর্যালোচনা এবং অর্থনৈতিক সূচকের ওপর।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য দূতাবাস পরামর্শ দিয়েছে, নিয়মিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি পর্যবেক্ষণ করতে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন চালিয়ে যেতে। পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী নির্দেশনা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।