২০ দিনের ব্যবধানে দুই ‘বাইসাইকেল বিস্ময়’: রোমেরোর গোল দেখে ঢাকার হামজাকে মনে পড়ল সবার

ইউরোপের আলোঝলমলে ফুটবল মঞ্চেও এমন মুহূর্ত আসে, যা হাজার মাইল দূরের কোনো দেশের স্মৃতিকে চোখের সামনে ফিরিয়ে আনে। সম্প্রতি টটেনহ্যাম হটস্পারের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো নিউক্যাসলের বিপক্ষে যে বাইসাইকেল কিক গোলটি করেছেন, তা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যেন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে হামজা চৌধুরীর করা ঐতিহাসিক গোলের হুবহু পুনরাবৃত্তি।

নিউক্যাসলের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, ৪৬তম মিনিটে ব্রুনো গিমারেশের গোলে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। গোল হজমের পর টটেনহ্যামের খেলোয়াড়রা কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে তারা এবং রক্ষণেও দেখা যায় সমন্বয়ের অভাব।

তবে ৭৮তম মিনিটে মোহামেদ কুদুসের নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করে রোমেরো দলকে সমতায় ফেরান। এই গোল দর্শকদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়ে তোলে। মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি রোমানচিং মোড় নেবে। কিন্তু ৮৬তম মিনিটে রক্ষণের ভুলে টটেনহ্যাম আবারও গোল হজম করে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকেরা হতাশা প্রকাশ করেন, মনে হয় ম্যাচ শেষের আগে দল জিততে পারবে না।

ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে কর্নার পায় টটেনহ্যাম। কর্নার থেকে আসা বল ডি-বক্সে পড়ে যায়। নিউক্যাসলের একাধিক ডিফেন্ডারের মাঝখানে বল পেয়ে যান রোমেরো। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি পিছনে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং নিখুঁত এক বাইসাইকেল কিক করেন। বল সোজা জালে গিয়ে রোমেরোর অবিশ্বাস্য গোলকে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দেয়। গোলকিপারের জন্য কোনো প্রতিরোধই সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তরা তখন বুঝতে পারেন—এটি কেবল একটি গোল নয়, এটি স্মৃতির পুনর্জাগরণ। ২০ দিনের ব্যবধানে দুই মহাদেশে একই ধরনের অসাধারণ গোল হয়েছে। হামজা চৌধুরীর ঢাকায় করা গোলের মতোই রোমেরোর গোলও সমানভাবে জাদুকরী ছিল। শুধু গোল নয়, এটি দেখিয়েছে চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সঠিক অবস্থান নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বাইসাইকেল কিক ফুটবলের সবচেয়ে জটিল ও চ্যালেঞ্জিং শিল্প। রোনালদো, ইব্রাহিমোভিচ, মেসি—এদের সঙ্গে রোমেরোর নাম এখন যুক্ত হয়ে গেছে। শুধু জাদুকরী গোলের কারণে নয়, এই গোলের মুহূর্তে দলের প্রয়োজন ও ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে চলার কারণে এটি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

এই পারফরম্যান্স কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন এক মানদণ্ড স্থাপন করেছে। টটেনহ্যামের সমর্থকরা এবং সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা আজকের এই গোলের মুহূর্তকে দীর্ঘদিন স্মরণ করবেন। এটি দেখিয়েছে যে ফুটবলে কখনো হেরে যাওয়া মানেই শেষ নয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া, দক্ষতা প্রয়োগ এবং সাহসিকতা—এই তিনটির সমন্বয়ই সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন তৈরি করে।

রোমেরোর এই গোল শুধু একটি ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, বরং সমগ্র দলের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আগামী ম্যাচে টটেনহ্যাম দল আরও শক্তিশালী হবে এবং দর্শকরা এ ধরনের মুহূর্তের প্রত্যাশায় থাকবেন।

এভাবে ইউরোপের আলোঝলমলে স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া এই গোল বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসের সঙ্গে যেন হুবহু মিলেছে। দুই মহাদেশে, দুই ভিন্ন ভেন্যুতে এক ধরনের জাদুকরী গোলের পুনরাবৃত্তি ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে।