বিশ্বব্যাপী বীমা খাতে অটোমেশন প্রযুক্তি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ কাজের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বর্তমানে ৯৭ শতাংশ বীমা সংস্থা তাদের অটোমেশন প্রয়াস আরও ত্বরান্বিত করছে। এটি প্রকাশ করেছে অয়ন সংস্থা তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে “পরবর্তী প্রজন্মের বীমা কর্মী শক্তি গঠন: তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা”।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, বীমা খাতে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে সংস্থাগুলোকে তাদের কর্মী নীতি ও কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং নতুন ব্যবসায়িক ঝুঁকির উত্থান সংস্থাগুলোকে নতুন ধরনের দক্ষ কর্মী প্রোফাইল গড়ে তুলতে বাধ্য করছে।
বিশ্বব্যাপী বীমা সংস্থাগুলো এখন ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষতার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকর্ষণীয় কর্মসংস্কৃতি এবং কর্মী মূল্য প্রস্তাব (EVP) না থাকায় প্রার্থীর প্রায় ৬৫ শতাংশ নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সরে যায়।
অয়ন সংস্থা তিন ধরনের নতুন কর্মী প্রোফাইল চিহ্নিত করেছে, যা বীমা খাতকে আগামী প্রজন্মের জন্য শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে:
| প্রোফাইল | প্রধান দায়িত্ব | প্রয়োজনীয় দক্ষতা |
|---|---|---|
| পুনর্নির্মিত বীমা প্র্যাকটিশনার | আন্ডাররাইটার, অ্যাকচুয়ারির মতো প্রথাগত কাজের আধুনিকীকরণ | কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ESG, সাইবার ঝুঁকি, ডিজিটাল প্রযুক্তি |
| শিল্প ভবিষ্যতজ্ঞ | জটিল ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় অন্তর্দৃষ্টি প্রদান | জলবায়ু ঝুঁকি, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোডাক্ট উদ্ভাবন |
| পরিবর্তন আয়োজনকারী | সংস্থা-wide পরিবর্তন বাস্তবায়ন, নতুন কর্মপ্রণালী এবং দক্ষতা উন্নয়ন | ট্যালেন্ট মবিলিটি, পুনঃপ্রশিক্ষণ, সাংগঠনিক সংস্কৃতি পরিবর্তন |
বিশেষ করে জলবায়ু ও ESG সংক্রান্ত দক্ষতা ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে রয়েছে, কিন্তু এই ধরনের সংকর দক্ষতা এখনও সীমিত।
অয়ন সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে, সংস্থাগুলোকে তাদের মানবসম্পদ কৌশলকে ব্যবসায়িক লক্ষ্য ও স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতে হবে, ডেটা-চালিত কর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং পুনঃপ্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করতে হবে। এটি সংস্থাগুলোকে পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতামূলক রাখবে এবং দীর্ঘমেয়াদে লাভজনকতা নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অটোমেশন কেবল কাজের প্রক্রিয়া পরিবর্তন করছে না, বরং কর্মী সক্ষমতা এবং সংস্থার ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যেসব সংস্থা এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নতুন দক্ষ কর্মী তৈরি করতে পারবে, তারা আগামী এক দশকে বীমা খাতে নেতৃত্বের আসনে থাকবে।
মোট কথা, ২০৩০ সালের মধ্যে বীমা খাতের প্রায় অর্ধেক কাজ অটোমেশনের দ্বারা প্রভাবিত হবে, যা সংস্থাগুলোর জন্য দ্রুত অভিযোজন, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং মানবসম্পদ কৌশলের পুনর্গঠনকে অপরিহার্য করে তুলেছে।
