২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্বে নাজমুল হোসেন শান্ত

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেতৃত্ব নিয়ে চলমান দীর্ঘদিনের নাটকীয়তা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে আবারও দায়িত্ব পাচ্ছেন টপ অর্ডার ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শনিবার (১ নভেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৫-২০২৭ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শেষ পর্যন্ত নাজমুল শান্তই থাকছেন টাইগারদের টেস্ট সেনাপতি। বিসিবির এই সিদ্ধান্ত শান্তর ওপর বোর্ডের গভীর আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকগণ।

ঘোষণার প্রেক্ষাপট ও নাটকীয় মোড়

নাজমুল হোসেন শান্তর অধিনায়কত্বে ফেরার গল্পটা বেশ নাটকীয়। গত জুনে দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শান্ত হঠাৎ করেই টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত ফর্মের অবনতি এবং দলের ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে তিনি সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তবে এরপর বাংলাদেশ লম্বা সময় কোনো টেস্ট ম্যাচ না খেলায় এবং বিসিবি কোনো নতুন নাম চূড়ান্ত করতে না পারায় এই পদটি নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। অবশেষে বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর শান্ত আবারও দায়িত্ব নিতে রাজি হন।

শান্তর অধীনে টেস্ট দলের পরিসংখ্যান

২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো সাদা পোশাকে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ব্যাটন হাতে তুলে নিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার অধীনে বাংলাদেশ দল কিছু স্মরণীয় জয় যেমন পেয়েছে, তেমনি তেতো হারের স্বাদও নিতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার নেতৃত্বে খেলা ম্যাচগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:


একনজরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর টেস্ট রিপোর্ট কার্ড

ক্যাটাগরিপরিসংখ্যান
অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক২০২৩ সাল
মোট ম্যাচ পরিচালনা১৪টি
জয়০৪টি
হার০৯টি
ড্র০১টি
সাফল্যের হার (জয়)২৮.৫৭% (প্রায়)
উল্লেখযোগ্য অর্জননিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

নেতৃত্বের সংকট ও বিসিবির যুক্তি

গত এক বছর নাজমুল শান্ত তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ব্যাট হাতে তার চরম অফ-ফর্ম এবং ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকে বোর্ড তাকে সরিয়ে দেওয়ার পর তিনি কিছুটা অভিমান থেকেই টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন। বিসিবি প্রধান ও নির্বাচক প্যানেলের মতে, বর্তমানে দলের ভেতরে শান্তর বিকল্প কোনো অভিজ্ঞ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য লিডার তৈরি হয়নি। বিশেষ করে লিটন দাস কিংবা মেহেদী হাসান মিরাজের নাম আলোচনায় আসলেও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে শান্তর ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দিয়েছে বোর্ড।

বিসিবির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “শান্তর ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ড্রেসিংরুমে তার নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসনীয়। আমরা তাকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় দিতে চাই যাতে সে একটি স্থিতিশীল দল গঠন করতে পারে।”

আগামীর চ্যালেঞ্জ ও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ

২০২৫-২০২৭ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি ম্যাচগুলোতে শান্তর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে হবে বাংলাদেশকে। লাল বলের ক্রিকেটে শান্তর ব্যক্তিগত ফর্ম ফেরানো এবং তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস জোগানোই হবে তার প্রধান কাজ।

ক্রিকেট প্রেমীরা আশা করছেন, নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন শেষ হওয়ায় এখন শান্তর ব্যাটিংয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ফর্মে থাকা শান্ত যদি আন্তর্জাতিক টেস্টে বড় ইনিংস খেলতে পারেন, তবে বাংলাদেশের টেস্ট আঙিনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।