২০২৫ সাল ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল পরিবর্তনের বছর। একদিকে মার্জার ও অধিগ্রহণের (M&A) সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন ব্যাংক গঠনের (‘ডি নোভো’) আবেদনও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে এই প্রবণতাগুলো শুধু চলবে না, বরং আরও বিস্তৃত ও গভীর রূপ নেবে। অনেককে দেখা যাচ্ছে ২০২৫ সালের ঘটনার “সিক্যুয়েল” হিসেবে, যেখানে আগের বছরের প্রভাব আরও বড় পরিসরে প্রকাশ পাবে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্কিন ব্যাংকিং খাতে মোট ১৮১টি মার্জার ও অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্লারোস গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান গ্রাহামের মতে, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর পেছনে রয়েছে পূর্ববর্তী দশকে ধীরগতির কার্যক্রম থেকে জমে থাকা চাপ, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দ্রুত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও এই প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে; বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে নীতিগত পরিবর্তনের আশঙ্কায় ব্যাংকগুলো আগেভাগেই চুক্তি সম্পন্ন করতে চাইছে।
ছোট ও মধ্যম ব্যাংকের জন্য এই পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আগের মতো সম্ভাব্য ক্রেতা সীমিত হওয়ার কারণে ছোট ব্যাংকগুলো ক্রয়ের বাজার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে বড় ব্যাংকগুলো নতুন সুযোগের জন্য সক্রিয়, যা প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।
নতুন ব্যাংক গঠনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য কম্পট্রোলার অব দ্য কারেন্সির কাছে ১৮টি নতুন আবেদন জমা পড়েছিল। ক্লারোস গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা মিশেল আল্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা ২৫-এ পৌঁছতে পারে। বছরের শুরুতেই কয়েকটি বড় নাম আবেদন করেছে, যা নির্দেশ করছে নতুন খেলোয়াড়দের আগমন অব্যাহত থাকবে।
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দিকেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ২০২৫ সালে কিছু কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল, তবে ২০২৬ সালে নতুনভাবে নিয়মকানুন কঠোর হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগপ্রাপ্ত নিয়ন্ত্রকরা নিজ দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়ম পুনর্গঠনে মনোযোগ দেবেন, ফলে ব্যাংকগুলোর সম্মতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিচের সারণিতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সম্ভাব্য প্রবণতা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| ক্ষেত্র | ২০২৫ সালের চিত্র | ২০২৬ সালের সম্ভাব্য প্রবণতা |
|---|---|---|
| মার্জার ও অধিগ্রহণ | ১৮১টি চুক্তি | সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি |
| নতুন ব্যাংক আবেদন | ১৮টি আবেদন | প্রায় ২৫টি আবেদন |
| ছোট ব্যাংকের অবস্থান | মধ্যম ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা | ক্রেতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি |
| নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা | বিধিনিষেধ শিথিল | নতুন করে শক্ত কাঠামো |
সার্বিকভাবে, ২০২৬ সাল ব্যাংকিং খাতের জন্য সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই বয়ে আনবে। বড় ব্যাংক, ছোট ব্যাংক এবং নতুন উদ্যোক্তা—সবাইকেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে এটি মেলাতে হবে।
