জার্মানিতে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে জার্মানি। এ পরিস্থিতিতে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দেশটি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পথে যেতে পারে।
জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এবং দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান সরকারও কৌশলগতভাবে এই অবস্থাকে সমর্থন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের সম্ভাব্য চড়া শুল্ক আরোপ বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে জার্মানিকে প্রভাবিত করতে পারে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক আয়োজক দেশ তিনটি হলেও মূলত খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষ করে যদি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তাহলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
জার্মানি আপাতত কৌশলগতভাবে অপেক্ষা করছে। ডিএফবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইতিমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক নেতারা জনমত গঠনের জন্য প্রচারণা শুরু করেছেন। তাদের লক্ষ্য জনগণের চাপ সৃষ্টি করে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পথকে শক্তিশালী করা।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের মানুষের মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে ও বিপক্ষে মতভেদের তফাত স্পষ্ট। জরিপের ফলাফল নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| জনমতের দিক | শতাংশ (%) |
|---|---|
| বয়কটের পক্ষে | ৪৭% |
| খেলার পক্ষে | ৩৫% |
| নিরপেক্ষ / সিদ্ধান্তহীন | ১৮% |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি জার্মান ফুটবল এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি অবস্থা এমনভাবে দাঁড়ায়, তাহলে ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল খেলাধুলার প্রতিযোগিতা নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মাঠ হিসেবেও ধরা দিতে পারে।
ডিএফবি এখনও নিশ্চিত করেছে যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের, কোচিং স্টাফ এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পরামর্শ করবে। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক ফিফা ও ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন (ইউইএফএ) এর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে।
এ মুহূর্তে, জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া সিদ্ধান্তটি কেবল ক্রীড়াজগত নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হয়ে থাকবে।
