বাংলাদেশে ২০২৬ সালের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই বছর থেকে রিটার্ন দাখিলের জন্য শুধুমাত্র অনলাইন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কারণ কাগজভিত্তিক দাখিল প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে। চলতি বছরের জন্য কর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তিনবার সময়সীমা বাড়িয়েছেন, তবে এখনও অনেক contribuটর শেষ মুহূর্তে রিটার্ন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
২০২৬ সালের জন্য, ব্যক্তিগত আয় ৩৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে। এ ছাড়াও, সরকার নতুন করে পাঁচটি কর ছাড় সুবিধা ঘোষণা করেছে, যা নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে। এই নতুন ছাড় সুবিধাগুলো মূলত ভাই-বোন থেকে প্রাপ্ত দান, কৃষি আয়, বেসরকারি খাতের কর্মচারীর আয়, পেনশন আয় এবং গুরুতর রোগ সংক্রান্ত চিকিৎসা খরচের উপর প্রযোজ্য।
নতুন কর ছাড় সুবিধার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| নং | সুবিধার ধরন | সংক্ষিপ্ত বিবরণ | শর্ত / মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১ | ভাই-বোন থেকে দান | ভাই-বোন থেকে প্রাপ্ত উপহার বা দান করমুক্ত | ৫ লাখ টাকার বেশি হলে ব্যাংক চ্যানেল বাধ্যতামূলক |
| ২ | কৃষি আয় | কৃষিকাজ থেকে অর্জিত আয় | ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত |
| ৩ | বেসরকারি কর্মচারী | করযোগ্য আয় থেকে সর্বোচ্চ বাদযোগ্য পরিমাণ | ৪,৫০,০০০ থেকে বাড়িয়ে ৫,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে |
| ৪ | পেনশন আয় | জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বা ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিমের আয় | আনুমানিক ২ লাখ সুবিধাভোগী |
| ৫ | গুরুতর রোগ চিকিৎসা খরচ | কিডনি, লিভার, ক্যান্সার, হার্ট, মস্তিষ্ক অস্ত্রোপচার এবং প্রোস্থেটিক প্রতিস্থাপন | নিয়োগকর্তার দ্বারা প্রতিপূরণকৃত অর্থ করমুক্ত |
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
১. ভাই-বোন থেকে দান: আগে শুধুমাত্র স্বামী/স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান থেকে প্রাপ্ত দান করমুক্ত ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভাই-বোনের দানও করমুক্ত, যা পারিবারিক সম্পদের লেনদেন সহজ করবে।
২. কৃষি আয়: কৃষি ও বাণিজ্যিক চাষের উন্নয়নে উৎসাহ দেওয়ার জন্য, কৃষিকাজ থেকে অর্জিত আয় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত করা হয়েছে। এটি খাতের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে।
৩. বেসরকারি কর্মচারী: করযোগ্য আয় হিসাব করার সময় সর্বোচ্চ বাদযোগ্য পরিমাণ ৪,৫০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে কর্মচারীদের হাতে বেশি অবশিষ্ট আয় থাকবে।
৪. পেনশন আয়: জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত পেনশন সম্পূর্ণ করমুক্ত। এটি অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক চাপ হ্রাস করবে।
৫. গুরুতর রোগ চিকিৎসা খরচ: কর্মচারীদের জন্য, গুরুতর রোগ সংক্রান্ত চিকিৎসা খরচ—যেমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন, কিডনি, ক্যান্সার বা হার্ট অস্ত্রোপচার—যদি নিয়োগকর্তা প্রতিপূরণ করে, তা করমুক্ত। এতে জীবন-হুমকিসংক্রান্ত রোগের সম্মুখীন ব্যক্তিদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
২০২৬ সালের অনলাইন রিটার্ন দাখিলকারীরা এই নতুন কর ছাড় সুবিধা পূর্ণরূপে ব্যবহার করতে পারবেন, যার ফলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং করযোগ্য আয় যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
