সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক-২০২৬ প্রাপ্তদের নাম। এ বছর এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একজন সঙ্গীত ব্যান্ড, যারা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। একুশে পদক বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও সৃজনশীল ক্ষেত্রের মানুষের জন্য বিশেষ সম্মান হিসেবে বিবেচিত।
সরকারি তথ্য মতে, এবারের পদকপ্রাপ্তদের তালিকা নিম্নরূপ:
| নাম | ক্ষেত্র | বিশেষ অবদান / পরিচিতি |
|---|---|---|
| ফারিদা আখতার বাবিতা | চলচ্চিত্র | চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘকালীন অবদান |
| প্রফেসর মো. আব্দুস সাত্তার | চিত্রকলা | বাংলাদেশে চিত্রকলার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
| মারিনা তাবাসসুম | স্থাপত্য | আধুনিক স্থাপত্য ও নকশায় বিশেষ অবদান |
| আইয়ুব বাচ্চু | সঙ্গীত | ব্যান্ড ও রক সঙ্গীতে বিপুল জনপ্রিয়তা |
| আরথি আহমেদ | নৃত্য | দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নৃত্য ক্ষেত্রে অবদান |
| ইসলাম উদ্দিন পালাকার | পালাগান | ঐতিহ্যবাহী গান ও লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ |
| শফিক রহমান | সাংবাদিকতা | সাংবাদিকতায় উল্লেখযোগ্য অবদান এবং সমাজ সচেতনতা |
| প্রফেসর ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার | শিক্ষা | শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘকালীন সেবা ও গবেষণা |
| তেজোষ হালদার জোশ | ভাস্কর্য | সমসাময়িক ভাস্কর্য ও শিল্পকলায় স্বীকৃতি |
| ওয়ারফেজ | সঙ্গীত ব্যান্ড | রক ব্যান্ড হিসেবে দেশের সঙ্গীত সংস্কৃতিতে অবদান |
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে দেশের সৃজনশীল এবং বুদ্ধিজীবী সমাজকে স্বীকৃতি দেয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একুশে পদক শুধুমাত্র সম্মাননা নয়, বরং এটি দেশের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও শিল্পক্ষেত্রে অনন্য অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
পদক প্রাপ্তরা আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন, রাজধানীর এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হতে এই সম্মাননা গ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
এ বছর যেমন সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, স্থাপত্য, নৃত্য, সাংবাদিকতা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান স্বীকৃত হলো, তেমনি ব্যান্ড ও লোকসংস্কৃতির ক্ষেত্রেও সম্মান প্রদানের মাধ্যমে দেশের সৃজনশীলতাকে বহুমাত্রিক আঙ্গিকে উৎসাহিত করা হলো। এই পদক প্রাপ্তরা দেশের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন এবং তাদের অবদান ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবে।
