পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী জানিয়েছেন, দেশের নদী, নালা, খাল এবং জলাধার পুনর্খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া খালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২.৫ কিলোমিটার এবং এটি স্থানীয় জনগণের জন্য সেচ সুবিধা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী রোববার খাল খনন এলাকাটি পরিদর্শন করার পর সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের সরকার নির্বাচিত জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে। সাহাপাড়া খালের পুনর্খননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং খালের পানি সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের ক্ষেতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক খাল ও নদীর খনন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেখানে পলি জমে গেছে। পাশাপাশি অনেক জায়গায় দোকানপাট ও বাড়িঘর খালের মধ্যে তৈরি হওয়ায় জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “এবারের খাল খনন কার্যক্রমে আমরা সব বাধা দূর করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে চাই। খালের আশেপাশের বাসিন্দাদের সহায়তা ছাড়া কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়।”
খনন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বিষয়ে তিনি বলেন, “সার্বক্ষণিক নজরদারি ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করব, কোনোরকম দুর্নীতি বা অনিয়ম হবে না। পুরো প্রক্রিয়া জনস্বার্থে পরিচালিত হবে।”
মন্ত্রী জানান, খাল খননের মাধ্যমে শুধুমাত্র কৃষির উন্নতি হবে না, বরং এলাকায় পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। খালটি নিয়মিত পানি প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি পল্যুশন কমাবে এবং জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
সাহাপাড়া খাল খনন সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| খাল/এলাকা | দৈর্ঘ্য | উদ্বোধন তারিখ | প্রধান কার্যক্রম | প্রত্যাশিত উপকার |
|---|---|---|---|---|
| সাহাপাড়া খাল, কাহারোল, দিনাজপুর | 12.5 কিমি | 16 মার্চ | খাল পুনর্খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন | সেচ সুবিধা, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ উন্নয়ন |
মন্ত্রী আরও জানান, সাহাপাড়া খাল পুনর্খনন দেশের অন্যান্য নদী ও খাল পুনর্খনন প্রকল্পের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খাল খননের কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ভোগ করবে এবং দেশের কৃষি উৎপাদন আরও দৃঢ় হবে।
