১৫ লাখ টাকার জন্য প্রকাশ্যে হামলা—কতটা নিরাপদ টঙ্গী?

টঙ্গীতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তারই নির্মম প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক এক সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায়। গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় শনিবার রাতে বিকাশের এক এজেন্টের দুই প্রতিনিধির ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। হামলায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফ হোসেন ও আজাদ নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার রাত আটটার দিকে তাঁরা মোটরসাইকেলে করে আনারকলি রোড অতিক্রম করছিলেন। এলাকাটি তুলনামূলকভাবে ব্যস্ত হলেও অন্ধকার ও সীমিত পুলিশি উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।

মধুমিতা তিনতলা মসজিদের পাশে পৌঁছালে দুই বা তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি আচমকা তাঁদের পথ রোধ করে। প্রথমে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা পেলে কোনো কথাবার্তা ছাড়াই হামলাকারীরা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয় আরিফের দিকে, যা তাঁর বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়। একই সঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতিরিক্ত আঘাত করা হয়, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন। আজাদও হামলাকারীদের রোষানলে পড়েন।

এই হামলার ধরন দেখে অনেকেই মনে করছেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। কারণ দুর্বৃত্তরা জানত যে ভুক্তভোগীদের কাছে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং কর্মীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অপরাধীরা সুযোগ বুঝে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা আরিফ হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান এবং তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—নগদ অর্থ পরিবহনের সময় এমএফএস কর্মীদের জন্য কি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে? অনেক ক্ষেত্রে এক বা দুইজন কর্মীই বড় অঙ্কের টাকা বহন করেন, যা অপরাধীদের জন্য সহজ লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নিরাপত্তা প্রটোকল দুর্বল থাকায় হামলার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের ধরতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। সম্ভাব্য সব পালানোর পথ ও সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, টঙ্গীর মতো জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারা নিয়মিত টহল, সড়ক আলোকসজ্জা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।